জুলাইয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু দিয়ে চলবে রংবেরঙের রেল।

0
7

বাংলার রূপ,নিউজ ডেস্কঃ

চলতি বছরের আগামী জুলাইয়ে পদ্মার বুক চিরে স্বপ্নের পদ্মা সেতু দিয়ে চলবে রংবেরঙের রেল। এতে করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো যাত্রী ট্রেনে বসে পুরন করবে স্বপ্ন । প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেললাইন চালু হবে।এরপর আগামী ২০২৪ সালে শুরু হবে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল।

তাই জুনের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করতে হাজারো শ্রমিক দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। গতকাল (১৯ জানুয়ারি ) পর্যন্ত প্রকল্পকাজের সার্বিক অগ্রগতি ৭৫ ভাগ। এর মধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮৫ ভাগ, এবং ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত ৬৫ ভাগ।

তবে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘আগামী জুনেই পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রেল চালু হবে। ’
তবে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘আগামী জুনেই রেললাইন বসানোর কাজ শেষে একটা ট্রায়াল রান করব। এরপর সরকারের কাছে আরও এক মাস সময় চাইব। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচলের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে জুলাইয়ে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলা শুরু হবে। তবে কত তারিখ নাগাদ পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলতে শুরু করবে তা চূড়ান্ত করবে সরকারের শীর্ষ মহল।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু ও এর দুই প্রান্তে রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালে। প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ২০১৬ সালে। শুরুতে যানবাহনের সঙ্গে একই দিন রেল চালুর পরিকল্পনা ছিল।কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করার দায়িত্ব সেতু বিভাগের হলেও রেল চলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। ফলে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন বসানো এবং স্টেশন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে আলাদা প্রকল্প নেয় রেলওয়ে মন্ত্রণালয়। জিটুজি (সরকারি পর্যায়ে) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীন। এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। ১৬৯ কিলোমিটার রেলপথের কাজ তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগ ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া। দ্বিতীয় ভাগ মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা। শেষ ভাগে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত অংশ পড়েছে। ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর রেলসংযোগ আগে থেকেই আছে। ফলে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথের কাজ শেষ হলে পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে বিকল্প আরেকটি পথ চালু হয়ে যাবে। এখন ঢাকা থেকে রেলের পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেন বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যায়। পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চালু হলে ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব ২১২ কিলোমিটার কমে যাবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, পদ্মা সেতুর ওপর রেললাইন নির্মাণে প্রকল্পে মূল নির্মাণকাজের ৮৫ শতাংশ অর্থ দিচ্ছে চীন। অর্থ পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তার পর ২০১৬ সালেই চায়না রেলওয়ে গ্রুপকে (সিআরইসি) নিয়োগ দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ঋণচুক্তি হয় ২০১৮ সালে। ফলে ঠিকাদার দুই বছর কোনো কাজ করেনি। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২২ সালে। পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। সময় বেড়ে হয় ২০২৪ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে বাড়তি আরও ১৫২ একর জমি লাগবে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে গেন্ডারিয়া পর্যন্ত মিশ্রগেজ লাইন সম্প্রসারণ, কমলাপুর টিটিপাড়ায় ও নড়াইলে পাতালপথ নির্মাণ এবং অন্যান্য স্টেশন অবকাঠামোর কাজ বেড়েছে। এর জন্য আরও ১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি হবে। এতে ব্যয় দাঁড়াবে ৪০ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।