অতঃপর চোরের সুমতি !

0
3

রাহাদ সুমন,

বানারীপাড়া(বরিশাল) প্রতিনিধি॥

বরিশালের বানারীপাড়ায় চুরি করে নেওয়া ডায়মন্ড ও  স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দিয়ে চোরের মানবিকতার পরিচয় দেওয়া নিয়ে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে,বানারীপাড়া পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মিজানুর রহমানের ভাড়াটিয়া বাসার দরজা খোলা পেয়ে গত ২৪ আগস্ট বিকেলে এক কিশোরী প্রবেশ করে স্টিলের সুকেস থেকে ডায়মন্ডের নাক ফুলসহ বেশ কিছু স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। ওই সময় মিজানুর রহমানের স্ত্রী বানারীপাড়া মাহমুুদিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসার শিক্ষক রহিমা খাতুন বাথরুমে গোসল করছিলেন। পাশর্^বর্তী বাড়ির ভাড়াটিয়া হেনারা বেগম এক কিশোরীকে প্রবাসী মিজানুর রহমানের ভাড়াটিয়ার বাসার গেট থেকে ওইদিন ওই সময় বের হতে দেখেছিলেন। এ সুত্র ধরে ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বানারীপাড়ার সীমান্তবর্তী স্বরূপকাঠি উপজেলার অলঙ্কারকাঠি গ্রামের মুন্নী নামের ওই কিশোরীকে বানারীপাড়া পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবাসী মিজানুর রহমানের বাসার সামনের রাস্তায় দেখতে পান প্রতিবেশী সেই ভাড়াটিয়া নারী। স্থানীয়রা তাৎক্ষনিক ওই কিশোরীকে আটক করে জিঙ্গাসাবাদ করলে সে জানায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের জম্বদ্বীপ গ্রামের অটোবাইক চালক রুম্মানের নির্দেশে সে ওই বাসায় চুরি করেছে এবং স্বর্ণালঙ্কারসহ  চুরি করে নেওয়া সবকিছু তার হাতে তুলে দিয়েছে। বিষয়টি বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মাসুদ আলম চৌধুরীকে জানালে তিনি পুলিশ পাঠিয়ে ওই কিশোরীকে থানায় নিয়ে জিঙ্গাসাবাদ করলে তার কাছেও সে একই কথা বলে । পরে ওই দিন রাতে জম্বদ্বীপ গ্রাম থেকে রুম্মানকে আটক করে পুলিশ। থানায় ওই কিশোরী ও রুম্মানকে মুখোমুখি করে জিঙ্গাসাবাদ করা হয়। ওই কিশোরী রুম্মানকে দেখিয়ে তার নির্দেশে চুরি করে সবকিছু তার হাতে তুলে দিয়েছে বলে জানায়। কিন্তু কিছুতেই চুরির বিষয়ে তার সম্পৃক্তা স্বীকার করছিলো না সুচতুর রুম্মান। এদিকে প্রবাসীর স্ত্রী এ বিষয়ে মামলা করতে রাজি না হওয়ায় ৪ সেপ্টেম্বর রাতে কিশোরী ও রুম্মানকে শর্ত সাপেক্ষে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। তবে ছেড়ে দেওয়ার পূর্বে উপস্থিত সবাই তাদের কাছে অনুরোধ করে শিক্ষিকার সংসার রক্ষায় স্বর্ণালঙ্কারসহ চুরি করে নেওয়া জিনিসপত্র যেন গোপনে হলেও তারা ফিরিয়ে দিয়ে যায়। ৫ সেপ্টেম্বর ভোরে শিক্ষিকা রহিমা খাতুন দেখতে পান রান্না ঘরের দরজা খোলা এবং মেঝেতে পড়ে আছে তার চুরি হওয়া অলঙ্কার বক্সটি। তিনি বক্সটি খুলে দেখতে পান দু’ছড়া স্বর্ণের চেন, এক জোড়া কানের দুল,দুটি আংটি,ডায়মন্ড ও স্বর্ণের দুটি নাক ফুল ও রূপার (নুপুর) অলঙ্কারসহ খোয়া যাওয়া সবই রয়েছে তার ভিতরে। মুহুর্তে তার মলিণ মুখে হাসির ঝিলিক ফোটে। চুরির এ ঘটনা নিয়ে প্রবাসী স্বামী ও শ^শুর বাড়ির লোকজনের মাঝে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকে তার সংসারে অশান্তি দানা বেধেছিলো। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার ওসি এসএম মাসুদ আলম চৌধুরী বলেন, কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধি কিশোরী মেয়েটি চুরির কথা অকপটে স্বীকার করলেও রুম্মান ব্যপক জিঙ্গাসাবাদেও কিছুতেই স্বীকার করেনি। অপরদিকে প্রবাসীর স্ত্রী মামলা করতে রাজি না হওয়ায় তাদেরকে কঠোর নজরদারীতে রাখার কথা বলে ও শর্ত সাপেক্ষে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। থানায় ওই প্রবাসীর স্ত্রীর কান্নার দৃশ্য দেখে চোরের মনুষত্ব,বিবেক ও মানবিকতা জাগ্রত হতে পারে কিংবা পরবর্তীতে ধরা পড়ার ভয়ে তারা চুরি করে নেওয়া স্বর্ণালঙ্কারসহ সবকিছু গোপনে ফেরত দিয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে চুরি করে নেওয়া প্রায় তিন ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও ডায়মন্ডের নাকফুল সহ মূল্যবান অলঙ্কার ফিরিয়ে দিয়ে চোরের মানবিকতার পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসীর মাঝে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন এ যেন ‘চোরের সুমতি’। আবার অনেকে মন্তব্য করেছেন এবার চোর শুনেছে ‘ধর্মের কাহিনী’।