লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাট দুই ইজারাদারের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষের আশংকা।

0
8

সোহেল হোসেন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুরে মজু চৌধুরীর হাট ফেরী ঘাট ইজারা নিয়ে দু- ইজারাদারের মুখোমুখি অবস্থানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে নৌ-বন্দর এলাকায়। যেকোনো সময় দুই ইজারাদারদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংঙ্কা করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

তবে আসন্ন ঈদুল আযহা কে কেন্দ্র করে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি ও সকল অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, দুই দপ্তর থেকে ইজারা নিয়ে দু পক্ষ ইজারাঘাট এলাকায় পাল্টাপাল্টি অবস্থান করতে দেখা গেছে। এদিকে দুই ইজারাদারের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত নৌ ঘাট এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। যে কোনো সময় দু গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংঙ্কা করছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় চররমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল। এই বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

ইজারাদার শিমুল চক্রবর্তী জানান, তিনি এই ফেরীঘাট টি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বি আই ডব্লিউ টি এ) থেকে ইজারা নিয়েছেন। একই সময় জনৈক ইসমাইল হোসেন পাঠান চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিস (স্থানীয় সরকার বিভাগ) থেকে ইজারার নেন। এতে করে আইনি জটিলতার দরুন ক্ষুদ্ধ হয়ে মহমান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন তিনি। এতে আদালত বিভাগীয় কমিশনার থেকে ইজারা নেয়া চুক্তিটি ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করেন।

তিনি আরো জানান, বিভাগীয় কমিশনার অন্যায়ভাবে দ্বিতীয় পক্ষকে ইজারা দেয়ায় তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় যান। আদালত বিভাগীয় কমিশনার অফিসের কবুলিয়ত ৬ মাসের জন্য স্থগিত করায় তিনি এখন ফেরিঘাটের প্রকৃত ইজারাদার এবং বি আই ডব্লিউ টি এ এর চুক্তি অনুযায়ী লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরির হাট এলাকা থেকে ভোলার ইলিশাঘাট নৌ পথের টোল আদায় করবেন বলে জানান তিনি।

এই দিকে দ্বিতীয় পক্ষ ইজারাদার ইসমাইল হোসেন পাঠান বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিকালে ইজারা ঘাট এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, যেহেতু তিনি বৈধ ইজারাদার হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনিই ইজারাঘাট ভোগ করবেন এবং টোল আদায় করবেন বলে দাবী করেন তিনি।

অপরদিকে দুই ইজারাদারদের বিবাদমান এ জটিলতায় আসন্ন কুরবানী ঈদে লক্ষ্মীপুর থেকে ভোলা বরিশালগামী যাত্রীদের ভোগান্তি ও হয়রানির সম্মুখীন এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, বিষয়টি সম্পর্ক তারা অবগত রয়েছেন। ঈদমুখী যাত্রী সাধারনের ভোগান্তি ও সকল অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।