বানারীপাড়ায় করপাড়া স্কুলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান,দূর্ঘটনার আশঙ্কা।

0
9

রাহাদ সুমন,

বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধিঃ

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের করপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ একতলা একাডেমিক ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। পুরো ভবনের ছাদ ও দেয়ালে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। খসে খসে পড়ছে ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা। ঝুঁকিপর্ণ ভবনেই পাঠদান করতে হচ্ছে ওই এলাকার কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সামনে খাল সংলগ্ন ছোট্ট খেলার মাঠে দুই কক্ষ বিশিষ্ট দুটো টিনকাঠের ক্লাসরুম তৈরি করেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঝুঁকিপর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় একতলা ভবনের ৪ কক্ষ বিশিষ্ট প্রতিটি ক্লাস রুমের ছাদ, ছাদের ভিম ও দেয়ালে অসংখ্য ফাটলের সৃষ্টি হয়ে মরিচায় ধরা রড বের হয়ে গেছে। পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।  এক পশলা বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি কক্ষের ভিতরে পড়ে একাকার হয়ে যায়। বেহাল হয়ে পড়া ভবনের ছাদ ও দেয়াল ভেঙ্গে যে কোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণহানিসহ ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এদিকে সন্ধ্যা নদীর বৃহৎ শাখা খালের পাড়ে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য নেই কোনো বড় মাঠ। জোয়ারের পানিতে অনেক সময় বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে টইটুম্বুর হয়ে যায়। এছাড়া ৫ পোস্টের এ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বদলি হয়ে যাওয়ায় ৪ জন শিক্ষক দিয়েই পাঠদান করানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়ও চরম ব্যহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) শহীদুল ইসলাম জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে নতুন ভবনের জন্য আবেদন করেও কোনো সুরাহা হয়নি। এ অবস্থায় আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শঙ্কায় আছি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা ও বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন জানান, বিষয়টি আমার নজরে আছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলবো। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম ফারুক বলেন,বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, করপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রয়াত ওসমান গণি হাওলাদার। বিদ্যালয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থবছরে ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নির্মিত হয়। ২০০০ সালে এটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। কিন্তু ভবন নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় জরাজীর্ণ অবস্থায় রূপ নিয়েছে।  শিক্ষক ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসী দুর্ঘটনা এড়াতে ও শিশুদের নির্বিঘেœ পাঠদান নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কার কিংবা নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।