পদ্মাসেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চল হবে দেশের সবচেয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ এলাকা।

0
8

রাহাদ সুমন,

বানারীপাড়া(বরিশাল) প্রতিনিধিঃ

পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। তবে সেখানে ব্যবসাবান্ধব, পরিবেশসম্মত ও পরিকল্পিত শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হবে। সবচেয়ে বেশি জরুরি পরিবেশ। সেটি নিশ্চিত করতে পারলে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর আগামী দিনে দক্ষিণাঞ্চল হবে দেশের সবচেয়ে উন্নত এলাকা। সেক্ষেত্রে ভোলা থেকে বরিশালে গ্যাস সংযোগ দেয়া হলে শিল্প-কারখানা নির্মাণে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হবেন।

শনিবার (১১ জুন) দুপুরে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘পদ্মা সেতু: দক্ষিণাঞ্চলের স্বপ্ন বুনন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি তারিকুল ইসলাম মাসুম। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন বিডিজেএর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব সৈকত।

পদ্মা সেতু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কথা তুলে ধরে সেমিনারের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন,একটা সেতুর জন্য এত মানুষ উন্মুখ হয়ে বসে আছে, এমনটা অবিশ্বাস্য ঘটনা। পদ্মা সেতু আসলে সারাদেশের মানুষের স্বপ্ন বুনন। এই মহাকাব্যের কান্ডারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভোলা থেকে বরিশালের সঙ্গে সেতু নির্মাণের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এখানে সেতু টেকনিক্যাল দিক ও অর্থনৈতিকভাবেও সম্ভব। সিরিয়াসলি সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

প্রধান বক্তা মৎস ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাসের স্বপ্নগাধা হলো পদ্মা সেতু। কিন্তু এটি নিয়ে নোংরা রাজনীতি, খারাপ রাজনীতি হয়েছে। ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু সবকিছু পেছনে ফেলে সেতু নির্মাণ শেষ হয়েছে। কিন্তু অনেক সম্ভাবনা থাকার পরও এতদিন দীর্ঘসময় যাতায়াতে লাগার কারণে অনেক বড় গোষ্ঠী দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখায়নি। তবে সামনে দিনে অর্থনীতির নতুন দ্বার উম্মোচিত হবে পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে। আগামীতে ভারত, নেপাল, ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ সম্ভব হবে। এটা কিন্তু পদ্মা সেতুর কারণেই হচ্ছে।

‘পদ্মাসেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চল হবে দেশের সবচেয়ে উন্নত এলাকা’
‘পদ্মাসেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চল হবে দেশের সবচেয়ে উন্নত এলাকা’
পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটা অসুস্থ রাজনীতির পরিচয়। আমরাও রাজনীতি করি। কিন্তু আওয়ামী লীগের সব কাজ ভালো সেটা বলার বা ভাবার কারণ নেই। কাজ করলে ভুল হতেই পারে। কিন্তু ভিন্ন রাজনীতি করার কারণেই ভালো কাজের সমালোচনা করা ঠিক না।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু করে এখন উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। বরিশাল এলাকার উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু সেখানে পরিবেশটা খুব জরুরি। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হলে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর আগামী দিনে দক্ষিণাঞ্চল হবে সবচেয়ে উন্নত এলাকা। সে কারণে বরিশাল অঞ্চল নিয়ে সামগ্রিকভাবে ভাবতে হবে। ভোলা থেকে গ্যাস সরবারহ করা সম্ভব হলে বরিশালে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। কুয়াকাটার ভাঙন ঠেকাতে ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে লোহা দিয়ে বাঁধ দিলেও বাঁধ টিকবে না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসব বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান তমাল পারভেজ বলেন, কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি বরিশালে পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। উদ্যোক্তা তৈরি হয় এমন শিক্ষায় জোর দিতে হবে। বরিশালের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দিতে হবে।
বরগুনার পৌর মেয়র কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পদ্মার এপারের পাশাপাশি পদ্মার ওপারের রাস্তা চারলেন করা। কারণ এখনই ওপারের মূল রাস্তা অনেকটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই এদিকটাতে গুরুত্ব দিতে হবে।

এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক নিজাম উদ্দিন বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে এখনই বিসিকসহ অন্যান্য যেসব অর্থনৈতিকভাবে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে জমি নেওয়ার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাই সহজ শর্তে, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসার সুযোগ দিলে ব্যবসায়ীদের আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে বরিশালে বিনিয়োগ করবেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মতো বরিশালে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে জোর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা যারা এইখাতে জড়িত তারা অনেক উপকৃত হবো। আমাদের খরচও কমবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও কবি তৌহিদুল হক।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিব, সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন নাদিরা কিরণ, জেবেল রহমান, মানিক লাল ঘোষ, রাজু হামিদ,জান্নাতুল ফেরদৌস চেীধুরী (সোহেল), শেখ জামাল, বিডিজেএর সহসভাপতি এম এম বাদশা, সংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব জুয়েল, যুগ্ম সম্পাদক সানবির রুপল প্রমুখ।