১২লাখ টাকার গাছ উপরের মৌখিক নির্দেশে নিলাম ছাড়াই সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি।

0
5
এজেড হীরা
শেরপুর ( বগুড়া) প্রতিনিধি:
  ১২ লাখ টাকার গাছ রহস্যময় দফা রফার মাধ্যমে  উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশের পরোয়ানা পেয়ে    নিলামের ডাক হাঁক ছাড়াই  কাটা হচ্ছে বগুড়ার শেরপুরের একমাত্র  দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামারের  বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধশতাধিক পরিমাণের গাছ।  ঐ খামারের উপপরিচালক সংবাদ মাধ্যমকে  বলছেন,  দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে গাছগুলো নাকি  কর্তন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের মাঝে অবস্থিত ঢাকা বগুড়া মহাসড়কের পশ্চিম  ধারে   প্রায় ৫৩ একর জমির উপর   ১৯৯৩ সালে গড়ে ওঠে উত্তরের বগুড়া জেলার একমাত্র এই দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামার। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রকল্পের (সাসেক-২) আওতায় ঢাকা বগুড়া মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের ফলে খামারের পূর্ব অংশের ৮৫ শতাংশ জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। এর উত্তর-দক্ষিণ সীমানায় রয়েছে অর্ধশতাধিক গাছ। আইন ও নিয়ম মোতাবেক গাছগুলোর মালিক খামার কর্তৃপক্ষ। এগুলো নিলামে বিক্রি করার কথা থাকলেও  সেটা করা হচ্ছেনা ।  তবে গাছগুলো কে কাটছেন তাও  জানেন না কেউ ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খামারের উপপরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন সংবাদ মাধ্যম কে  বলেন, ‘সওজ বিভাগ খামারের জায়গা অধিগ্রহণ করেছে। আমি ঝামেলা এড়াতে কোনো টেন্ডার দেইনি। সওজ নিলামের মাধ্যমেই গাছগুলো বিক্রি করেছে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শুনেছি। তবে এ-সংক্রান্ত লিখিত কোনো  কাগজ পাইনি। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তাঁরা পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন।’
খামারে গাছ কাটায় নিয়োজিত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরিফুর রহমান নামের জনৈক ব্যক্তি সাড়ে ৩ লাখ টাকায় গাছগুলো কিনেছেন। বর্তমান  গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫টি গাছ কাটা হয়েছে জানা গেছে। । এর মধ্যে রয়েছে ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি, বেলজিয়াম ও মেহগনি।
গাছের ক্রেতা আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমি কোনো ঠিকাদার নই বা টেন্ডারের মাধ্যমে গাছও কিনিনি। শ্রমিক সরবরাহ করা আমার কাজ। বগুড়া জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আমি গাছ কাটার শ্রমিক সরবরাহ করেছি।’ শাহালম নামের সওজের এক প্রকৌশলী তাঁদের কাজ দেখাশোনা করেন বলে জানান আরিফুর রহমান। বগুড়া জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রাস্তার পার্শ্বের গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। এর জন্য আমাদের আলাদা একটা বিভাগ আছে।’ তথ্য যাচাইয়ের জন্য আসাদুজ্জামান সওজের রাজশাহী বিভাগীয় আরবরিকালচার অফিসে কথা বলার পরামর্শ দেন। যোগাযোগ করলে আরবরিকালচার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব কুন্ডু বলেছেন, ‘আমরা গাছ কাটার আগে নাম্বারিং করে নিলামে বিক্রি করে থাকি। শেরপুরের দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামারের গাছ নিলামে বিক্রির কথা আমার জানা নেই।’
 এবিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার  মো. ময়নুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যম কে জানিয়েছেন, ‘সরকারের মালিকানাধীন যেকোনো সম্পদ অপসারণের জন্য বিশেষ বিধিবিধান আছে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে বিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।