পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল।

0
7

সোহেল খান দূর্জয়

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দশ দিনের ব্যবধানে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে কৃষকের সহস্রাধিক হেক্টর জমির বোরো ধান। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে ফসলি জমি নিমজ্জিত হওয়ার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপরদিকে, ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, কোন কোন এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি মানুষের বসতবাড়িসহ কয়েকটি হাট বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে গত কয়েকদিন আগেও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে প্রথমে প্রায় ৫০ হেক্টর এবং পরবর্তীতে আরো প্রায় ৫০০ হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে যায়। আর অ-সময়ে এমন দফায় দফায় বন্যার কবলে পড়ে জেলাবাসীর মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত সোমবার সকাল থেকে জেলার ধনু, কংশ এবং মগড়া, নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ঐদিন দুপুরের দিকে জেলার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা, দূর্গাপুর, পূর্বধলা, ও হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরী, মদন ও মোহনগঞ্জ এবং বারহাট্টা উপজেলার কয়েকটি ইউনয়নের অধিকাংশ এলাকাসহ জেলার অর্ধেকেরেও বেশি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে করে তলিয়ে যায় খালিয়াজুরী উপজেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে যোগাযোগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ গ্রামীণ জনপদের অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাট। একই সঙ্গে প্লাবিত হয়ে পড়ে খালিয়াজুরি উপজেলার , জগন্নাথপুর বাজার, পাচঁহাট বাজার, কল‍্যানপুর বাজার ও আদমপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হাটবাজার এবং মানুষের বসতবাড়িসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে খালিয়াজুরী উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও মদন-খালিয়াজুরী- মোহনগঞ্জ সড়কের কয়েকটি এলাকাসহ কয়েকটি জায়গা তলিয়ে গিয়ে জেলা সদরের সঙ্গে হাওরের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে ধনু নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে উপজেলার কির্তনখলা বেরী বাধ,খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীর তীর সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁধ কির্তনখলা। বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়া এবং রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল প্রায় সহস্রাধিক হেক্টর জমির বোরো ধান। যদিও কৃষি কর্মকর্তার দাবি ফসলি জমি নিমজ্জিত হওয়ার পরিমাণ ৫ থেকে ৬শ হেক্টর হতে পারে।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এফ এম মোবারক আলী বলেন, পাহাড়ি ঢলে বন্যা দেখা দেয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ থেকে ৬শ’ হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। তবে দুয়েকদিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফসলের তেমন একটা ক্ষয়-ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়ে গেছে। ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেশকিছু রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। ইতিমধ্যে আমরা বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং সবকটি ইউনিয়নের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করছি। বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আমরা ও বন‍্যা মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছি, তিনি বলেন, ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।