শেরপুরে শ্রমিক সংকট ও মজুরী বেশীতে হারভেস্টার মেশিনের চাহিদা বৃদ্ধি।

0
3

আমিরুল ইসলাম

শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :

শেরপুরে দু’দফায় শীলা বৃষ্টিতে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা হতাশায় পড়েন। তার উপর এবার ধান কাটার শ্রমিক সংকট, মজুরি বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় কৃষকের ফসল ঘরে তুলতে ইতোমধ্যে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা শুরু করেছে কৃষি বিভাগ।

জানাগেছে, একজন শ্রমিকের ৫ শতক জমির ধান কাটতে সময় লাগে একদিন। এক্ষেত্রে তারা মজুরি নিচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা। আর কৃষক ওই জমি থেকে ধান পচ্ছে ২ থেকে ৩ মণ ধান। এতে কৃষকের লোকশান গুনতে হচ্ছে।
মজুরীবৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে জেলার কৃষকরা ধান কাটার জন‍্য হারভেস্টার মেশিনের প্রতি ঝুঁকছেন। কেউ কেউ প্রয়োজনের তাগিদে নিজেই জমির ধান কাটছেন। এমতাবস্থায় শ্রমিক সংকট মোবাবেলায় কৃষকদের ছাড়কৃত মুল্যে ধান কাটা ও মাড়াই মেশিন বা কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারে পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি বিভাগ।
তবে ওই হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটতে কৃষকরা নানা সমস্যার কথা বললেও কৃষি বিভাগ ওই সমস্যার কথা মানতে নারাজ। জেলার সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের কামারিয়া গ্রামের কৃষকরা জানান, আমরা কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের কথা শুনেছি। কিন্তু ওই মেশিনে কেবল শুকনো জমিতে ধান কাটা যায়। পানি বা নরম মাটিতে মেশিন নামানো যায় না।

এছাড়া শীলা বৃষ্টি বা ঝড়ো হাওয়ায় যেসব ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে সেসব জমির ধানও কাটা যায় না। তাছাড়া মেশিনে ধান কেটে মাড়াই করলে খড়গুলো নষ্ট হয়ে যায়। এতে ওই খড় গো-খাদ্যের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। অন‍্যদিকে হারভেস্টার মেশিনে সাশ্রয়ী মূল্যে ধান কাটার বিষয়টি অবগত নয় বলে দাবী করেছেন কৃষকরা।

জেলার নালিতাবাড়ীর আন্ধারুপাড়া গ্রামের কৃষক সুরুজ্জামান বলেন, অনেক টাকা খরচ ও পরিশ্রম করে ধানচাষ করে যদি লোকশান দিতে হয়, তবে কৃষক পরিবার কেমনে বাঁচবে।

শেরপুর কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মুহিত কুমার দে সাংবাদিকদের জানান, কৃষকের ধান কাটতে শ্রমিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে সরকার থেকে কৃষকদের ভর্তুকি মূল্যে ধান কাটা এবং মাড়াই যন্ত্রসহ জেলায় মোট ৫৬ টি হারভেস্টার মেশিন দেয়া হয়েছে। ইচ্ছে করলে যে কোন কৃষক ৬০ ভাগ সাশ্রয়ে ধান কাটতে পারে। এসব মেশিনের মধ্যে শুধু মাত্র ধান কাটার মেশিন রয়েছে ৮টি এবং কম্বাইন হারভেস্টার (কাটা ও মাড়াইসহ) রয়েছে ৪৮ টি।
এ কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনে দ্রত ও কম সময়ে অল্প খরচে অধিক জমির ধান কাটা যায়। তেমনি শ্রমিকের উচ্চ মজুরির উপর নির্ভর করতে হয় না কৃষকদেরকে। মাটিতে নূয়ে পড়া ধান কাটার জন্যও ওই মেশিনে বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। এই হারভেস্টার মেশিন ব্যাবহারে জেলার সর্বত্র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রচার প্রচারণা চালানোর পরও কৃষক কেন যে হারভেস্টারের প্রতি আগ্রহ হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় এবার ৯১ হাজার ৬৯৬ হেক্টর জমিতে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। আর ঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ধানসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের ধান চাষে আগ্রহ যাতে না হারায় সেজন্য কৃষকদের প্রনোদনাসহ ভর্তুকীর সুযোগ সুবিধা রয়েছে। জেলায় বর্তমানে ৫৪ টি হারভেস্টারের মধ্যে শেরপুর সদর উপজেলায় কম্বাইন হারভেস্টার রয়েছে ৭ টি, নকলায় কম্বাইন হারভেস্টার ১১ টি এবং ছোট হারভেস্টার রয়েছে ৫ টি, নালিতাবাড়ীতে কম্বাইন হারভেস্টার ১৫ টি, ঝিনাইগাতীতে কম্বাইন হারভেস্টার ৪ টি এবং ছোট হারভেস্টার রয়েছে ৩ টি এবং শ্রীবর্দীতে কম্বাইন হারভেস্টার রয়েছে ৯ টি।
বর্তমানে সবগুলো মেশিন পুরোদমে ধান কাটার কাজ করছে। প্রতি একরে ধান কাটতে গত বছর মূল্য ছিলো ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা। তবে এবছর তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। কোন কৃষক হারভেস্টারে ধান কাটতে চাইলে মেশিনের মালিকের সাথে কথা বলে দরদাম ফুরিয়ে ধান কাটতে পারে। এতে প্রতি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিতে পারে।
কৃষি বিভাগ আরো জানায়, কৃষকরা যদি ধান কাটতে ও মাড়াইয়ে হারভেস্টারের প্রতি নির্ভরশীল হয়। তবে শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরিও অনেক কমে যাবে।