শিক্ষার্থীদেরকে অত্মহত্যার নামে প্রকারন্তরে হত্যা করছে রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি।

0
9

নিউজ ডেস্কঃ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অন্তু রায়ের মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না চলমান শিক্ষাব্যবস্থা!

কুয়েট এর  টেক্সটটাইল ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অন্তু রায় এর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। গনতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সুজয় শুভ এবং সাধারণ সম্পাদক আলিসা মুনতাজ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, কুয়েটের ড.এম.এ রশিদ হলের আবাসিক ছাত্র অন্তু রায় হলের বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন,গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল এই আত্মহত্যাকে রাষ্ট্রের কাঠামোবদ্ধ খুন বলাটাকেই সঠিক মনে করে। রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটকৌশলনের মধ্য দিয়ে আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের পাবলিক চরিত্র কেড়ে আধা পাবলিক-আধা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। চড়া দামে সনদ কেনার প্রতিযোগিতায় নাভিশ্বাস উঠছে নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তের। সর্বজনের ট্যাক্সের টাকায় চলা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বেতন ফির নামে কাড়িকাড়ি টাকা ঢালতে গিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীর পরিবার। অন্তু রায় সেই হাজারো শিক্ষার্থী নিপীড়নের একটা উদাহরণ মাত্র।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, রাষ্ট্র নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য,কিন্তু বাংলাদেশে মৌলিক অধিকারগুলোকেই এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসায়ী খাতে পরিণত করেছে লুটেরা বেনিয়া গোষ্ঠী আর সেই লুটেরাদের চৌকিদারী করছে রাষ্ট্র বা সরকার। অন্তু রায়ের মত শিক্ষার্থীদেরকে অত্মহত্যার নামে প্রকারন্তরে হত্যা করছে রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি। এই হত্যার দায় রাষ্ট্র কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহন শেষে একজন শিক্ষার্থী রাষ্ট্রের তথা সমাজের সেবাই করেন ফলে তাকে শিক্ষিত করে তোলার দায় রাষ্ট্রের। এই দায়বোধ থেকেই শিক্ষার ব্যয়ভার রাষ্ট্রের উপরেই বর্তায়। কিন্তু রাষ্ট্র যখন এই দায় নিচ্ছে না তখন একমাত্র উপায় হল রাষ্ট্রকে এই দায় নিতে বাধ্য করা এবং এই অপমানের সমাজ ভেঙে এমন একটা রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্র উদ্যোগী হয়ে পূরণ করবে।

সবশেষে অন্তুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং দেশের ছাত্র সমাজকে এই হত্যার প্রতিবাদে সরব হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।