তিতাস গ‍্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মিজানের বিরুদ্ধে।

0
25
মোঃরায়হান আলী 
সাভার উপজেলা প্রতিনিধিঃ
সাভারে তিতাস গ্যাসের ঠিকাদার পরিচয়ে অবৈধ সংযোগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইমন হোসেন মিজানের বিরুদ্ধে।
সাভারের পৌর এলাকার মজিদপুর, ইমান্দিপুর, চাপাইন, ডগরমোড়া ও রাজাশন সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তিতাস গ্যাসের ঠিকাদার পরিচয়ে প্রায় শতাধিক বাসাবাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেন অবৈধ ঠিকাদার ইমন হোসেন মিজান।
কয়েকজন বাসা বাড়ির মালিক বলেন, ইমন হোসেন মিজান তিতাস গ্যাসের ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে বৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার কথা বলে প্রতিটি বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন।
পরে তাদের অবৈধ সংযোগ দিয়ে পরবর্তীতে লাইনটি বৈধ করে দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মজিদপুরের স্থানীয় এক বাসিন্দার বলেন, ইমন হোসেন মিজান তিতাস গ্যাসের ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে প্রায় ৫ শো ফিট ১ ইঞ্চি পাইপ দিয়ে লাইন টেনে একজন প্রবাসীর ৬ তলা ভবন সহ বেশ কয়েকটি বহুতল ভবনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেন।
এসময় স্থানীয়রা আরো বলেন, এই লাইনের পাইপ গুলি নিম্নমানের হওয়ার কারনে এবং অদক্ষ জনবল দিয়ে কাজ করানোর কারণে পাইপের বিভিন্ন অংশে লিকেজ দেখা দিয়েছে। ফলে যেকোন মুহূর্তে এসব লিকেজ থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান তারা।
মজিদপুর এলাকার ছয়তলা ভবনের মালিক মোহাম্মদ জাফর বলেন, মোঃ রিপন ও ইমন হোসেন মিজান, মোটা অংকের টাকা নিয়ে বৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার কথা বলে অবৈধ সংযোগ দেন তাকে।
এছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গ্যাস অফিসের চলমান বকেয়া বিল আদায়ে বিশেষ অভিযান কে পুঁজি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ইমন হোসেন মিজান।
গত ১৬ নভেম্বর মঙ্গলবার পৌর এলাকার ডগরমোড়া ও স্মরণিকা মহল্লায় বকেয়া বিল আদায়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ।
এ সময় অনুমোদনের চেয়ে অতিরিক্ত চুলা ব্যবহারকরা সহ বিল বকেয়া থাকার কারণে প্রায় শতাধিক বৈধ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
 পরে তিতাস গ্যাসের নিয়মিত বকেয়া বিল আদায় বিশেষ এ অভিযান কে কাজে লাগিয়ে ইমন হোসেন মিজান তার পরের দিন  ২৭ ই নভেম্বর  ২০২১  বুধবার বেশ কয়েকটি বৈধ গ্রাহকের কাছ থেকে ৫০ হাজার করে টাকা নিয়ে অবৈধভাবে নতুন রাইজার দিয়ে সংযোগ চালু করে দেন তিনি।
স্মরণিকা মহল্লার চারতলা ভবনের মালিক পিন্টু হোসেন বলেন, তিতাস গ্যাসের বকেয়া বিল আদায় বিশেষ অভিযানে তার বাড়িতে অনুমোদনের চেয়ে অতিরিক্ত চুলা থাকার কারণে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর পরের দিন ইমন হোসেন মিজান ঠিকাদার পরিচয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পুনরায় নতুন রাইজার দিয়ে তার সংযোগ প্রদান করেন বলে জানান তিনি।
সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ইমন হোসেন মিজান নামে কোন ঠিকাদার আমাদের এখানে নাই। তবে আমি এর আগেও অনেকবার শুনেছি ইমন হোসেন মিজান ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বাণিজ্য করছে। আমরা এসব অবৈধ সংযোগ প্রদানকারী ভুয়া ঠিকাদারদের কে চিহ্নিত করছি, তদন্ত পূর্বক অবশ্যই তাদের নামে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here