সেনাবাহিনীর কর্নেল,মেজর পরিচয়ে চাকুরীর প্রলোভনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি মহল।

0
9
রাজধানীর মিরপুরে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো একটি চক্র।
চক্রের সদস্যরা নিজেদের সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কর্নেল, মেজর পরিচয় দিয়ে হুবহু সেনা পোশাক পরে নির্ধারিত অফিসে বসে চাকরি প্রার্থীর ইন্টারভিউ গ্রহণ করত সুচতুরভাবে। তাদের বেশ ভূষা, আচার আচরণ, কথাবার্তা ও পোশাক দেখে বুঝার উপায় নেই যে তারা প্রতারক।
সেনাবাহিনীর লোগো সংবলিত বিভিন্ন দ্প্তরের প্যাডে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে আসল নিয়োগ পত্রের মতো ভুয়া নিয়োগ পত্র তুলে দিতো চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে গ্রামের সহজ সরল নিরীহ লোকদের কাছ থেকে তারা হাতিয়ে নিতো জনপ্রতি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কমিশনের ভিত্তিতে চাকরি প্রার্থী সংগ্রহ করার জন্য লোকও নিয়োগ দিতো চক্রটি। প্রতারণার বিভিন্ন ধাপে চক্রের সদস্যরা নিজেদের সেনাবাহিনীর লোক বলে পরিচয় দিতো।
অভিযোগ উঠেছে, বহিরাগত দালাল ছাড়াও এ চক্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত। তাদের আশ্রয় প্রশয়ে চক্রটি নির্ভয়ে তাদের অপকর্ম করেছেন দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকায়।
সম্প্রতি এরকম একটি চক্রকে আটক  করেছে  র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)। আটককৃতদের কাছ থেকে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে ভর্তির ২টি নিয়োগ পত্রের ফটোকপি, ১টি টোকেন স্লিব, সেনাবাহিনীর লোগো সংবলিত ১০টি সীল, ২টি স্ট্যাম্প প্যাড উদ্ধার করে র্যাব।
শুক্রবার এই চক্রের ৫ সদস্যকে শাহ আলী থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। এ ঘটনায় একইদিন প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যের বিরুদ্ধে শাহ আলী থানায় একটি  মামলা করেন মো. আকরাম হোসেন।
মামলার আসমিরা হলেন- ফকির মো, ইলিয়াস শাহ, মো. নাজমুল মোল্লা, মো. আমিরুল ইসলাম তুর্জ, গোলাম মর্তুজা খান নোমান, মো. এনায়েত খান এনাম, পলাতক আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলম ও অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন।
মামলার অভিযোগে আকরাম ভুক্তভোগী আর ৯ চাকরি প্রত্যাশী কিভাবে এ চক্র দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তা   সবিস্তারে তুলে ধরেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে এইচএসসি পাশ করার পর নিজেদের জমিতে কৃষি কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করি। আমার এক আত্নীয় জাকির হোসেনকে এ ব্যাপারে সহযোগিতার  কথা বলি। একদিন তিনি বলেন, ঢাকায় আমার ফকির মো. ইলিয়াস শাহ নামে এক পরিচিত লোক আছেন।   যিনি সেনাবাহিনীতে চাকরি দিয়ে থাকেন।
এ ব্যাপারে মোবাইলে ইলিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগ  করলে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে সৈনিক, অফিস সহকারী, মেস ওয়েটার, বাবুর্চি, মালি, ক্লিনার পদে চাকরি দিতে পারবেন। এ জন্য সুঠাম দেহের অধিকারী হতে হবে।
এক পর্যায়ে আমি সহ আরও ২ জন ঢাকায় এসে মিরপুরের শাহ আলী থানার খাজা রোডের ৪ নম্বর বাড়িতে     ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে তার অফিসে দেখা করি। প্রথম সাক্ষাতে তিনি  নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্নেল পরিচয় দেন।
মামলার বাদি আকরাম বলেন, ২০১৭ সাল থেকে  এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বহু মানুষকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রটি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। ইলিয়াসের অফিসে গিয়ে এ আলামত পেয়েছি। এরা সার্বক্ষণিক মাদক সেবন করে।
তিনি বলেন, প্রথম সাক্ষাতে ইলিয়াস সেনাবাহিনীর ড্রেস পরে নিজেকে কর্নেল পরিচয় দিয়ে আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এক পর্যায়ে তার প্রতারণার বিষয়টি ধরা খেলে ইলয়াসসহ চক্রটি পালিয়ে যায়। উপায় না দেখে র‌্যাব ৪ এর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেই। র‌্যাব এ চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করে শাহআলী থানায় সোপর্দ করে।
মামলার ৩ নম্বর আসামি আমিরুল ইসলামের স্ত্রী সীমা বলেন, আমার স্বামী নির্দোষ। সে বাংলাদেশে আমেরিকান একটি কোম্পানীর ফুডস ম্যানেজার। সে এ কাজে জড়িত নয়। তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি ইলিয়াস শাহের পরিবারের এক সদস্য  নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন আমার ভাই নির্দোষ। সেনাবহিনীতে চাকরি দেয়ার জন্য যে লোক টাকা নিয়েছে সে করোনায় মারা গেছেন। টাকা না পাওয়ায়  আমার ভাই ইলিয়াসকে ফাঁসানো হয়েছে। যে লোক  মারা গেছেন তিনি  সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। তিনি মারা যাওয়ায় সবাই ফেঁসে গেছে। আমার ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে যে টাকা ছিল তা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহআলী থানার এস আই এম এ জাহেদ বাংলার রুপ’কে বলেন, এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের  ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজকে তাদের আদালতে তোলা হবে। ৭ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here