মুলাদীতে জয়ন্তী ও আড়িয়ালখা নদীতে মা ইলিশ নিধনে জেলেদের মহোৎসব।

0
2

আরফুল হক তারেক 
মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ

মুলাদীতে জয়ন্তী ও আড়িয়ালখা নদীতে মা ইলিশ নিধনের মহাউৎসব করছেন জেলেরা। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালালেও জেলেদের থামাতে পারছেন না। কৌশল পাল্টে জেলেরা উপজেলার জয়ন্তী ও আড়িয়ালখাঁ নদীতে মা ইলিশ নিধন করে চলছেন। সরকারি প্রণোদনা পেয়েও জেলেরা মাছ ধরায় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এই সময়ে জেলেদের জন্য চাল দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ ইতিমধ্যে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করছেন। কিন্তু গতকাল শুক্রবার উপজেলার জয়ন্তী ও আড়িয়ালখা নদীতে সহস্রাধিক নৌকায় জেলেরা মাছ ধরেন।
ইলিশ নিধনে পেশাজীবী জেলেদের সাথে যুক্ত হয়েছেন মৌসুমী জেলেরা। এসব লোকজন ইটের ভাটা, কৃষি কাজ, ঢাকায় বিভিন্ন কাজ করেন। ইলিশের প্রজণন মৌসুমে তারা পেশাজীবী জেলেদের সাথে যোগ দিয়ে মাছ ধরার উৎসব করেন। কিছু জেলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাছ ধরেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর দ্রুতগামী নৌকা (স্পিড বোট) ও ট্রলার নিয়ে অভিযান চালান। কিন্তু জেলেরা তাদের ছোট নৌকায় অস্থায়ী ইঞ্জিন লাগিয়ে নিয়েছেন। ফলে প্রশাসনের অভিযান টের পেলেই দ্রত পালিয়ে যান তারা। এছাড়া ছোট খালে প্রবেশের পর অভিযানকারীরা তাদের নাগাল পায়না।
ষোলঘর গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম জানান, ইলিশ ধরা, বিক্রয় ও পরিবহন করা নিষিদ্ধ। কিন্তু জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জয়ন্তী নদীতে মাছ ধরছেন। জেলেদের সহযোগিতা করছেন তাদের পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা। এসব নারী ও শিশু নদীর পাড়ে অবস্থান করেন। মাছ নিয়ে আসলে তারা সেগুলো নিয়ে দ্রুত সটকে পরেন। প্রত্যেকের বাড়িতে ২/৩টি করে ডিপ ফ্রিজ রয়েছে। পরবর্তীতে এসব মাছ চড়ামূল্যে বিক্রি করা হয়। ফ্রিজে জায়গা না থাকলে নারী ও শিশুরা এলাকায় বাড়ি গিয়েও মাছ বিক্রি করে থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, অভিযানের ট্রলার চালকদের সাথে কতিপয় জেলে ও স্থানীয় নেতাদের আতাত রয়েছে। প্রশাসন কোথাও অভিযানে বের হলেই ট্রলার চালকরা মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে দেয়। তাই তারা সহজেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। যেসব জেলেদের সাথে যোগাযোগ হয়না তাদের ২/১জন আটক হয়।
চরকালেখান কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল জানায়, প্রজণন মৌসুমে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা সময়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ মাছ ধরার কাজে যুক্ত হয়। স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতে যান। কিছু শিক্ষার্থী টাকার প্রয়োজনে জেলেদের মাছ ধরার কাজে সময় দেয়।
সফিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু মুছা হিমু মুন্সী বলেন, সরকার জেলেদের চাল দিচ্ছে। এরপর জেলেরা নদীতে ইলিশ নিধন করার বিষয়টি দুঃখজনক। জেলেদের সরকারি আইন মেনে নিষিদ্ধ মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থেকে ইলিশ রক্ষায় সহযোগিতা করা উচিত।
উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা সুব্রত গোস্বামী জানান, গত ৪ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ নিধনের অভিযোগে ৯জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২জনকে কারাদণ্ড দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু জেলেদের থামানো যাচ্ছে না। তারা নৌকায় অস্থায়ী ইঞ্জিন লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here