নাইট কোচের সেই মেয়েটা!

0
32

মোঃরিপন হাওলাদার 

ঔপন্যাসিক,

সময়টা ছিলো ২০১২ একদিন হঠাৎ খালামনির ফোন আশলো তুই একটু ঢাকায় আয় তোর বোনকে নিয়ে যা,সে গ্রামে বাড়ি যেতে চায়! ও আচ্ছা, খালাতো বোনকে নিয়ে আশার জন্য চলে গেলাম ঢাকায়, দুই, তিন দিন ঢাকা ঘুরলাম ফিরলাম ভালোই লাগছিলো!টিকেট নিলাম দুইটা বরিশালে যাবার জন্য রাতের গাড়ি, সকালে খালাতো বোন স্কুলে গেলো দুপুরে এসে বলে ভাইয়া যেতে পারবো না, কারন আমার পরীক্ষার তারিখ পরছে। কি করার একাই যেতে হবে টিকিট রিটার্ন হইলোনা বিক্রয়ও করতে পারলাম না।গাড়িতে গেলাম একা মানুষ দুইটা সিট, উঠে বসলাম, গাড়ি ছাড়লো সব সিট ভরপুর যাত্রী শুধু আমার পাসের সিট খালি, কিছুদুর যেতেই গাড়িটি থামলো,একটা বোড়কা পড়া মেয়ে উঠলো বসার যায়গা নাই কনট্রাক্টর বললো ভাই মেয়েটা বিপদে পরছে যেতেই হবে তাই উঠালাম! ভালো, আমিও কিছু বললাম না যাত্রীগুলি সকলে আমার দিকে তাকায়,মেয়েটাও তার কাজলঘোলাটে চোখ দিয়ে তাকাচ্ছে বার বার বুঝলাম সকলে চাইতাছে তাকে আমার সিটে বসাই! কিছু করার ছিলো না, মেয়েটার চোখ ছাড়া কিছুই দেখতে পেলাম না! একেতো বোরকা পড়া মুখটাও ডাকা, আমার পাশে বসা মেয়েটা আমার একটু আনইজি লাগতে শুরু করলো কারনটা আমি দেখতে তেমন সুন্দর না কালো, খাটো সব মিলিয়ে আরকি, সকল যাত্রী আমার দিকে তাকাচ্ছে! বসে বসে আমার মোবাইলে তোলা কিছু ফুলের ছবি দেখছি হঠাৎ সুমধুর কন্ঠে বলে উঠলো নাইস আমি অবাক! মেয়েটা বলে উঠলো ছবিগুলি সুন্দর আপনি তুলছেন? একটু রাগ হইলাম আপনার দরকার আছে?
মেয়েটা চুপ হয়ে গেলে, আমি একটু ভাব নিলাম কারন কোনো ভাবেই তার সাথে আমার কোথাও মিল নেই, তার চোখ বলে সে অনেক সুন্দর আমি তার কাছে কিছু না! হঠাৎ তার ফোন আসতে শুরু করলো কথা বুঝতে পারলাম তার বড় বোন অসুস্থ বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল ভরতি, তার রক্ত লাগবে B+ মেয়েটা কান্না করতে শুরু করলো মনটা গলে গেলো আমার, প্রশ্ন করলাম কি হইয়াছে? সে বললো তার বোন অসুস্থ তার জরুলি রক্ত লাগবে, ম্যানেজ হচ্ছে না, আমি সান্তনা দিলাম!
আমিও একটু চেষ্টা করলাম , তখন সময় রাত তিনটা যা সম্ভব না! আমার রক্তের গুরুপের সাথে মিল আছে কিন্তুু দুই মাস আগে দিয়েছি বলে কিছু বললাম না!কথা বলতে বলতে চলে আসলাম বরিশালে আমি গাড়ি থেকে নামার আগে প্রশ্ন করলাম রক্ত ম‍্যানেজ হইছে সে কান্না করতে করতে বললো না, আমার এখানে পরিচিত কেউ নেই কি করবো বুঝতাছি না, ডক্টর বলছে এক ঘন্টার ভিতরে মেনেজ করতে হবে, তাই খুব ভয় পাচ্ছে! তার কথা শুনে বললাম চলেন আমি যাবো আপনার সাথে চলে গেলাম মেডিকেল, সেখানে গিয়ে দেখলাম খুব খারাপ অবস্থা, তাই নিজের কথা ভুলে গেলাম ডক্টরের কাছে গেলাম বললাম আমি দিবো রক্ত, দুই মাস আগে দিয়েছি গোপন করলাম যদি যানে তাহলে নিবে না তাই! রক্ত দিলাম সকলে খুসি! সকলকে খুসি দেখে ভালো লাগলো, তখন সকাল হয়ে গেলো, বললাম আমি একটু আসছি নিচে গেলাম বন্ধুদের সাথে একটু আড্ডা মারলাম পরে আসলাম এখন বিদায় নিবো শুনি মেয়েটা কোথায় থাকবে তা নিয়ে আলোচনা করছে তারা অনেক লোক মেডিকেেল , সেখানে থাকার পরিবেশ নাই,আমি আর কিছু চিন্তা করলাম না প্রস্তাব করলাম চাইলে আমার বাসায় যেতে পারেন তবে একটু দুর মেয়টা রাজি হয়ে গেলো 🤔এখন বিপদে পরে গেলাম চিনি না যানিনা একটা মেয়েকে বাসায় উঠাবো 🤔যখন বলে ফেলেছি তখন কি আর করার, নিয়ে গেলাম বাড়ি। আমার বাড়িতে সকলে দেখে অবাক বোরকা পরা মেয়ে প্রথম ভাবছে খালাতো বোন, বোনতো বোকরা পরে না , পরে দেখে না অন্য মেয়ে! 🙄ছোট বোনকে ডাক দিলাম বলাম তাকে রুমে নিয়ে যা সে ফ্রের্স হবে, ছোট বোন রুমে নিয়ে গেলো, আমি মাকে সব খুলে বললাম! মা বললো গোসল করে আয় আমি চলে গেলাম গোশল করতে, গোশল থেকে এসে খেতে বসলাম মা বলে মেয়েটা নিয়ে এক সাথে খা, ছোট বোনকে ডাক দিলাম বললাম তাকে খেতে আসতে বল। তাকে নিয়ে আসলো আমি দেখে বোকা হয়ে গেলাম এতো সুন্দর একটা মেয়ে আমার সাথে ছিলো! গোলাপি একটা থ্রিপিছ পরা চুলগুলি ভিজা চোখ দুইটি টলমল করছে দেখে আমি ফিদা খেতে বসলাম পরিবারের সকলের সাথে কোনো কথা বললাম না খাওয়া শেষ করে আমি আমার রুমে চলে গেলাম, সে ছোট বোনের রুমে গেলো, আমি একটা ঘুম দিলাম! ঘুম থেকে উঠে তাকে দেখছিনা, বোনের সাথে ঘুরতে বেরহইছে আমি আর কি করবো বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেলাম নিত্যদিনে কাজ আড্ডা মারতে! বন্ধুর জন্মদিনের পাটি ছিলো তাই অনেক রাতে বাসায় আসলাম! তবে কোথায় মন বসছিলোনা মনে চাচ্ছে বাসায় যাই, কিন্তুু অসময় বাসায় গেলে সকলে উল্টো পাল্টা ভাববে, তাই গেলাম না! বাসায় এসে ঘুমিয়ে গেলাম সকালে উঠতেই দেখি অনেকগুল ফোন আসলো আমার জরুলি কাজ পরে গেলো! ফ্রের্স হয়ে বেরিয়ে পড়লাম ছোট বোন ফোন দিয়ে বলে ভাইয়া সে চলে যাবে তুমি কোথায়? কি করবো? বললাম আমি বি জি আছি তুই একটু দিয়ে আয়, বোন বললো তুই না এক দের মাস আগে রক্ত দিয়েছো তুই আবার ক্যন দিয়েছো? তখন বুঝলাম বোনের সাথে গল্প করা শেষ, আমি বললাম জরুলি ছিলো তাই, মেয়েটা শুনে ফেললো আমি রিস্ক নিয়ে রক্ত দিয়েছি! মেয়েটাকে ছোট বোন দিয়ে আসলো!

তার নাম ঠিকানা কিছু যানিনা,ছোট বোন আমার সেও কিছু যানে নাই! তবে ছোট বোন আমার গল্প তার সাথে করছে! তবে ছোট বোন বললো সে ইন্টার পরুয়া! দুই দিন পরে বাসায় আশলাম, এসে আমি চিন্তায় পরে গেলাম কি করলাম আমি নাম ঠিকানা কিছুই রাখলাম না! চলে গেলাম মেডিক্যাল সেখানেও নেই তারা চলে গিয়াছে! তাকে আর খুজে পেলাম না!
২০১৬ সালে আমি বিদেশ পারি দিলাম!
২০১৮
হঠাৎ ফোন আসলো!!!।
মেয়েটার বড় বোন সে আমাদের ০৬০৮গুরুপের একটা বান্ধবী, গুরুপে আমার উলটাপালটা কমেন্ট, পোস্ট নিয়ে তাদের বাসায় আলোচনা চলছে বলে একা ফালতু ছেলে আছে বরিশালের ছেলেটা শুধু উলটাপালটা লিখে! নাম বললো রিপন মেয়েটা শুনে বলে দেখি তার ছবি বান্ধবী বললো তুই কি করবি মেয়েটা বললো দেখিনা একটু সে আমার ছবি দেখে চিনে ফেলে বলে আপু তুই কাকে ফালতু বলছিস চিনো তাকে তুই? বলে হ্য আমার গুরুপের বন্ধু, মেয়াটা বললো তোকে যে ছেলেটা সকাল ৬টা বাজে রক্ত দিয়েছে সেই ছেলেটা ( রিপন হাওলাদার)! বান্ধবী আমার অবাক বলে কয় দিন আগে তার সাথে কমেন্টে ঝগরা করছি!
মেয়েটা তার বড় বোনকে বললো তাহলে বাদদে ধরা দিছ না থাক এইভাবে,
মেয়েটা বসে নেই আমার প্রোফাইলে ডুকে আমার ছোট বোনের আইডি নিয়ে তার সাথে যোগাযোক করলো ছোট বোনকে আমাকে কিছু বলতে না করলো! ছোট বোন ফোন দিয়ে বলে ভাইয়া তোমাকে কেউ ফোন দিয়েছে? আমি বললাম কতইতো ফোন আসে ও বললো না ভাইয়া এইটা অন্যরকম ফোন আমি বললাম নারে বোন এমন ফোনতো আসে নাই! কেনো কি হইছে ও বলে কিছুনা! ওকে! ঘন্টা তিন পরে
হঠাৎ মেয়েটা ফোন দিলো পরিচয় দিলো আমিতো নাম ঠিকানা কিছুই যানতাম না!সেই রাতের ঘটনা মনে করিয়ে দিলো! তখন চিনতে পারলাম, সে এখন ব্যাংকে
চাকরি করে!

আজ দুই বছর হয়ে গেলো!
(কাল্পনিক)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here