শেরপুরে সেবা নার্সিং হোমের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু।

0
17

এ জেড হীরা
শেরপুর ( বগুড়া) প্রতিনিধিঃ 

বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের মধ্যে অনিয়ম আর ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে পরিচালিত হওয়া সেবা নার্সিং হোম নামে এক বেসরকারি ক্লিনিক মালিক বিরুদ্ধে অবহেলায় রোগী মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই ওই নার্সিংহোমে মারা যাওয়া ব্যক্তি চানমিয়া মণ্ডল (৬০) উপজেলার  খানপুর ইউনিয়নের ভাণ্ডার কাফুড়া ভদ্রপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

তথ্য সূত্রেে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই শনিবার সকাল ১১ টায় শেরপুর পৌর শহরের জগন্নাথ পাড়াস্থ, সেবা নার্সিং হোমে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন অসুস্থ চান মিয়া।  পরে ভর্তি করে

 নিয়ে  ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক ডাঃ এস এম শাহ আলী নিজেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোগীর পিত্তথলীতে পাথর হয়েছে বলে জানান স্বজনদের। সেই দিন আনুমানিক বিকাল ৫ টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপরাশেন শেষে রোগীকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করলে ধিরে ধিরে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। এর পর রাত দেড়টায় তার মৃত্যু ঘটে। তার মৃত্যুতে অব্যবস্থাপনার অবহেলার  অভিযোগে স্বজনেরা হৈ চৈ শুরু করলে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তৎক্ষণাত ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এবিষয়ে মৃতের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তার বাবার হার্টের সমস্যা জনিত রোগে ভুগছিলেন। এ কথা তারা ডাক্তারকে জানিয়েছেন। কিন্তু ডাক্তার তাদের কথার ভ্রুক্ষেপ নাকরে

 অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের সময় কোন এনেস্থিয়াসিস্ট ও বিশেষজ্ঞ সার্জন ছিল না জানান তিনি। ওই নার্সিং হোমের মালিক ডাঃ শাহ আলী ও দুইজন নার্স মিলে অপারেশন করে ফেলেন।
 ফলে অদক্ষতা ও অবহেলা জনিত কারেণই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এব্যাপারে সেবা নার্সিং হোমের মালিক ডাঃ এস এম শাহ আলীর সাথে এ বিষয়ে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর  ব্যাপারে জানতে চাইলে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে  বলেন, আমাদের কাছে এ ব্যাপারে এখনও কেউ লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ করেনি তবেে অভিযোগ পেলে তদ্ন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য সেবা নার্সিং হোম দীর্ঘ দিন থেকে পৌর শহরের মধ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, গত ২০১৮ সালের পরে তাদের নিবন্ধনের মেয়াদ উর্ত্তীণ হলেও, এখনও তারা নবায়ন করেননি। এছাড়াও বেসরকারী ক্লিনিক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, অচেতন করার ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদীর অভাব রয়েছে বলে জানা গেছে।

এবিষয়ে জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি রয়েছে। তার বাইরে কেউ যদি কোন ক্লিনিক-হাসপাতাল পরিচলনা করেন তা অবশ্যই অবৈধ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ক্লিনিক গুলোর অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে শেরপুর নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর শেরপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, শেরপুরের অধিকাংশ ক্লিনিকগুলো সরকারি বিধি মালার তোয়াক্কা করছে না। ফলে একদিকে যেমন নাগরিকরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে। তারা এবিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারী বৃদ্ধি ও দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here