মুলাদীতে হস্তান্তরের আগেই ভেঙে গেল প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর।

0
7

আরিফুল হক তারেক
মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:

মুলাদীতে হস্তান্তরের আগেই ভেঙে গেছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর। গত শনিবার রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহেবেরচর আশ্রয়ন প্রকল্পের দুটি ঘর আংশিক ভেঙে পড়ে। আরও কয়েকটি ঘর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ঘর ভেঙে পড়ায় নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৩৯টি ঘর বরাদ্দ হয়। প্রতিটি ঘরের জন্য সরকারি খরচ নির্ধারণ হয় ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ঘরে কোনো প্রকার রড ব্যবহার করেননি নির্মাতারা। এছাড়া ঘর নির্মাণে নি¤œমানের ইট, বালু, সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘর ও জমি নাই এমন দরিদ্রদের জন্য দক্ষিণ সাহেবের চর ঝুকিপূর্ণ এলাকায় ৩৯টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। আড়িয়ালখাঁ নদী থেকে অল্প কিছু দূরে এই ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভ্রা দাস তার আতœীয় ঝন্টু মজুমদারকে দিয়ে ঘরগুলো নির্মাণ করান। যথাযথ তদারকী না থাকায় ঘরে নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ঘর নির্মাণে ভিত্তি না দিয়ে শুধু বালুর উপরে ইটের গাথুনি দেওয়া হয়।
এব্যাপারে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার ঝন্টু মজুমদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নাজিরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হাসানাত জাপান জানান, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজস্ব তত্ত্বাবধানে মুজিব শতবর্ষের উপহারের ঘর নির্মাণ করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তদরকির দায়িত্ব দেননি। এমনকি কাজ শুরুর সময় জানানো হয়নি। ইউএনও’র নিজস্ব লোকজন দিয়ে কাজ করিয়েছেন। তাই ঘরের কাজ মান সম্মাত হয়নি।
নাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বাদল খান বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছে এক মাসও হয়নি। আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরের কিভাবে করা হয়েছে, কেন ভেঙে পড়েছে সেই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ সিকদার বলেন, বৃষ্টির পানির চাপে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাঝখানের রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় দুটি ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। মোরামতের জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর মোহাম্মাদ হোসাইনী জানান, ভারী বর্ষণে আশ্রয়ন প্রকল্পের দুটি ঘরের বারান্দা ও সামনে পিলার ভেঙ্গে গেছে। সংস্কারের জন্য নির্মানকারীকে নির্দেশণা দেওয়া হয়েছে। তিনি দ্রুত ঘরগুলো মেরামত করে দিবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here