সাভারের ইসলামিয়া ডিজিটাল ল্যাব এন্ড হসপিটালে ভুল চিকিৎসায় রুগীর মৃত্যু।

0
104

সাভার প্রতিনিধি:

সাভারের ইসলামিয়া ডিজিটাল ল্যাব এন্ড হসপিটাল নামে একটি বেসরকারী হাসপাতালের মালিকের গাফিলতিতে ও ভুল চিকিৎসায় এক রুগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৫  জুন) রাতে সাভার পৌর এলাকার ৭ নং ওয়ার্ডে মজিদপুরে অবস্থিত ইসলামিয়া ডিজিটাল ল্যাব এন্ড হসপিটালে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম হাজেরা বেগম (৪৫)। সে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের কোন্ডা এলাকার মোঃ মাসুদের স্ত্রী।রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন, গত তিন দিন আগে ওই হাসাপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হাজেরা বেগম একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। এরপর থেকেই তার রক্ত বন্ধ না হওয়ায় দিন দিন হাজেরার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রক্ত দেয়ার পরামর্শ দিলে স্বজনরা রক্তের জন্য খোজাখুজি করতে থাকেন। এর ভিতরেই হাসপাতালের মালিক জসিম জানায় তাদের কাছেই রক্ত আছে এবং রোগীকে দেয়া যাবে। পরে হাসপাতালের দেয়া রক্তই কাল হয়ে দাড়ায় হাজেরার জন্য।
রিপন নামে হাজেরা এক আত্মীয় বলেন, কোন ধরনের পরিক্ষা ছাড়াই রক্ত দেয়ার সাথে সাথে রোগীর খিচুনি শুরু হয়। এসময় আমরা অন্য হাসাপাতালে স্থানান্তর করতে চাইলেও হাসপাতাল মালিক জসিম তা না করে আরও এক ব্যাগ রক্ত দিতে বলে। দুই ব্যাগ রক্ত দেয়ার সময় অচেতন হয়ে যায় হাজেরা।পরে তরিগড়ি করে হাসপাতাল মালিক জসিম সহ রোগীর স্বজনেরা হাজেরাকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতু ঘোষনা করেন। এঘটনার পরপরই জসিম হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়, তাকে আর খুজে পাওয়া যায়নি। তবে সোহেল নামে একজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মালিকের সাথে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, নিহতের পরিবারের লোকজন এখন শোকে দিশেহারা। শিঘ্রই এঘটনায় আমরা হাসপাতাল মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করবো।
এব্যাপারে হাসপাতালের মালিক মোঃ জসিম হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। লোকমারফত খোজ নিয়ে তাকে চেনা গেলেও সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, ইসলামিয়া ডিজিটাল ল্যাব ও হসপিটালের মালিক জসিম হাওলাদার কিছুদিন আগেও একই ভবনে থাকা রোজ ক্লিনিকের ওটি বয় হিসেবে কাজ করতো। এর আগে সে পাশ্ববর্তী ল্যাব জোন হাসপাতালে মার্কেটিংয়ে  কাজ করেছে। মুলত চতুর জসিম অল্প দিনেই হাসপাতাল দিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে একাধিক অপরাধ করেও সুকৌশলে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্যান্য হাসপাতালের মালিকগন। কারন একজনের অন্যায়ের জন্য সকলের সুনাম এবং সেবাদানে বিঘ্ন ঘটুক তা কেউই চায়না।

সাংবাদিক পরিচয় দানকারী সোহেল বলেন, যখনই রোগীর অবস্থা খারাপ হলো তখন রোগীর স্বজনরা অন্য হাসপাতালে নিতে চান। কিন্তু হাসপাতালের মালিক জসিম তাকে নিতে দেয়নি। যে কারনে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয় এবং মারা যায়। জসিম এর আগেও এরকম কাজ করেছে। সে আসলে কোন চিকিৎসক না হয়েও হাসপাতালের মালিক হয়ে গায়ের জোরে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সায়েমুল হুদা বলেন, যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কিংবা ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকে তাহলে পরিবারের পক্ষ থেকে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করতে হবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here