নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ও ফসলি জমির পলি মাটি ইট ভাটায়।

0
22

আরিফুল হক তারেক

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:

মুলাদীতে অবাধে চলছে জয়ন্তী ও আড়িয়ালখাঁ নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন। ফলে অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সহস্রাধিক পরিবার। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও স্থানীয়রা একাধিকবার অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বালু দস্যুরা তাদের কাজ অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বালু উত্তোলনের পাশাপাশি ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি নিয়ে যাচ্ছে ইট ভাটায়। ফসলি জমির পলিমাটি ইট বানানোর কাজে নিয়ে যাওয়ায় মাটির উর্বরতা বিনষ্ট হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সাধারণ মানুষ নদী ভাঙ্গন রোধ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং ফসলি জমির শীর্ষ মাটি কাটা বন্ধের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েছেন। গত ১৯ জানুয়ারি মুলাদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাইনুল আহসান সবুজ, চরকালেখান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজ্বী মো. মোহসীন উদ্দীন খানের সুপারিশসহ চরকালেখান ইউপি সদস্য আবু ছালে পল্লব সিকদারসহ দের শতাধিক মানুষ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানান। জানাগেছে উপজেলার জয়ন্তী ও আড়িয়ালখা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু দস্যুরা দিন রাত বালু উত্তোলন করছে। অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন করায় শুষ্ক মৌসুমেও উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের গলইভাঙ্গা নতুন হাট, নমরহাট, পশ্চিম তেরচর, পশ্চিম চরকালেখান, নন্দীরবাজার, নবাবের হাট লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে বরিশাল জেলার সুনামধন‍্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চরলক্ষীপুর সিনিয়র ফাজিল মাদরাসাসহ চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, তেরচর ভাঙ্গারমোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাট বাজার। চরকালেখান ইউপি চেয়ারম্যান হাজ্বী মো. মোহসীন উদ্দীন খান জানান নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে কতিপয় বালু ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুভ্রা দাস জানান ২/১ দিনের মধ্যে নদীতে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here