রূপগঞ্জে মরণ নেশা ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমসে ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা।।

0
40
খোরশেদ আলম,রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
রূপগঞ্জে দিন দিন ইন্টারনেট ফাইটিং ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমস ঝুঁকছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
বৈশ্বিক মহামারী (কোভিড-১৯) করোনা ভাইরাস চলমানের এই দুর্যোগকালীন সময়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসে অবসর সময় কাটাচ্ছেন কখনো টেলিভিশন দেখে আবার কখনো স্মার্ট মোবাইল ফোনে পাবজি-ফ্রি ফায়ার গেমসে হয়ে পরছে আশক্ত।
জানা গেছে, রূপগঞ্জে উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীরা ও  যুব সমাজ দিন দিন ফ্রি ফায়ার নামক গেমের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। যে সময় তাদের ব্যস্ত থাকার কথা নিয়মিত পড়ালেখাসহ শিক্ষা পাঠ গ্রহণ নিয়ে ও খেলার মাঠে ক্রীড়া চর্চার মধ্যে, সেখানে তারা ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে জড়িয়ে পড়ছে পাবজি-ফ্রি ফায়ার গেমসের নেশায় ।
১০ বছর থেকে ২২ বছরের উঠতি বয়সের যুবকরা প্রতিনিয়ত অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে এসব গেইমে আসক্ত হচ্ছেন। এসব বিদেশী গেম থেকে শিক্ষার্থী বা তরুণ প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপজেলার রূপগঞ্জ,ভুলতা, গোলাকান্দাইলসহ কয়েকটি পাড়া মহল্লার অলিতে গলিতে দলবদ্ধ ভাবে অনলাইনে মোবাইল গেমস খেলছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা রাত ১২ পর্যন্ত পাড়া মহল্লার গলিতে পড়ে থাকছে। এরপর বাড়িতে গিয়ে পূণরায় গেমস খেলা শুরু করছে। ভোর রাত পর্যন্ত তাদের মোবাইল গেমসের বিকট শব্দ শোনা যায়।
ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল সারাক্ষণকে বলেন, এলাকার অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা এ বয়সে থাকার কথা মাঠে খেলার কথা কিন্ত তারা গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল গেমসে আসক্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে পড়ার টেবিল ছেড়ে মোবাইল গেমসে পড়ে থাকছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝড়ে পড়ার আশংকা বাড়ছে।
গোলাকান্দাইল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা তাজু মিয়া বলেন, রাত ১ টা পর্যন্ত শুনি মোবাইলে বিকট শব্দ। গেমসের গুলি কর গুলি কর, মার মার, গ্রেনেড মারসহ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে শিশুরা। রাতে ঘুমানো সময় পাশের রুম থেকে এমন শব্দ প্রায় প্রতিনিয়ত শুনতে পাই। স্কুল থেকে অনলাইনে ক্লাস হবে এই অজুহাতে ফোন নিয়েছে কিন্তু সারা দিন সারা রাত গেমসে পড়ে থাকে। অনেকবার শিশুদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি গেমস না খেলতে কিন্ত মানেনি। শিক্ষকদের উচিত শিশুদের সচেতন করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কথা গেমসে আসক্ত শিশু বিল্লাল নামের এক ছাত্র বলেন, ফ্রি ফায়ার গেম একবার যে খেলবে সে আর কোনদিন ছাড়তে পারবেনা। আমিও প্রথম ফ্রি ফায়ার খেলা সম্পর্কে জানতাম না। এখন নিয়মিত খেলি নেশা হয়ে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও ছাড়তে পারিনি। গেমস খেলার সময় নেট সমস্যা হলে মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার ইচ্ছে হয়, একটা ভেঙে ছিলামও।
উপজেলার ভুলতা এলাকার মতিন মিয়া ফ্রি ফায়ার গেমসকে যেকোনো নেশার চেয়ে ভয়ংকর বলে উল্লেখ করে বলেন, এই সমস্যা থেকে আমাদের সন্তান, ভাই-বোনদের বাঁচাতে হলে অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল, শিক্ষকসহ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি আর প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি আলম হোসেন জানান, উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়,অলিতে গলিতে দলবদ্ধ মোবাইল গেম খেলতে দেখা যাচ্ছে। বুধবার ( ৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে দেখি দলবদ্ধ সন্ত্রাসীদের ভাষায় ভয়ানক কথা বলছে আর মোবাইল টিপছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া অন্তত ৮-৯ জন। ভয় আর কৌতূহল নিয়ে তাদের কাছে গিয়ে দেখা যায়, মোবাইলে তারা গেমস খেলছে। আর বলছে, তারাতাড়ি গুলি কর, মাইরা ফালা।
রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এম এইচ ইমন ক্ষোভের সাথে বলেন, পাড়া-মহল্লায় বেশিরভাগ ওলিতে-গলিতে দলবদ্ধ মোবাইল গেমস নিয়ে ব্যস্ত বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা। আমরা আমাদের বয়সে যেখানে খেলাধুলা করেছি এখন সেখানে বালু ফেলে বাউন্ডারি দিয়ে দখলে রেখেছে বিভিন্ন প্রজেক্ট কোম্পানি। ঢাকার খুব সন্নিকটে হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সকল ল্যান্ড প্রপার্টির চোখ। এসব কারনে আজ উঠতি বয়সের ছেলেরা এখন মোবাইল গেমিং এর দিকে ঝুঁকছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তাছাড়া আগের মত খেলাধুলা করার মত মাঠও নেই পাড়া-মহল্লায়। তাই অলস সময় কাটাতে শিক্ষার্থীরা মোবাইলে ভিডিও গেমসের প্রতি আসক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে অনেক শিক্ষার্থী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here