ক্লিনিকের টাকা পরিশোধ করতে মাত্র তিশ হাজার টাকায় বিক্রিত সন্তান ফেরত দিল প্রশাসক।।

0
18
মোঃসোহেল রানা
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
প্রাইভেট ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় স্থানীয় দালালদের প্ররোচণায় গাইবান্ধার হতদরিদ্র পরিবার শাজাহান -আঙ্গুরির চারদিনের নবজাতককে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেন।স্থানীয় কলেজ শিক্ষক কামরুল হাসান মিন্টু ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে জেলা প্রশাসকের সহায়তায় বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয় শিশুটিকে।এমনকি এই দম্পতির পারিবারিক সচ্ছ্বলতার জন্য একটি ভ্যান গাড়ি উপহার দেন জেলা প্রশাসক।
জেলা সদরের ঘাগোয়া ইউনিয়নের শোলাগাড়ী গ্রামের রাস্তার পাশে এই দরিদ্র পরিবারের বসবাস। এই পরিবারের পা-ফেলার মতো এক খণ্ড জমি নেই তাদের।দৈনিক রোজগার করতে না পারলে পেট চলে না তাদের।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রসব বেদনায় কাতরাতে থাকেন আঙ্গুরী বেগম। স্থানীয়ভাবে দাইরা চেষ্টা করেও সন্তান প্রসবে ব্যর্থ হলে তাকে নেয়া হয় গাইবান্ধা শহরের যমুনা ক্লিনিকে। প্রসব করেন ফুটফুটে ছেলে সন্তান। কিন্তু ক্লিনিকের বিল পরিশোধের টাকা নেই তাদের।নিরুপায় হতদরিদ্র পরিবারকে এ সময় প্রতিবেশী জাফর, অলিউল ও হারুন সন্তান বিক্রির পরামর্শ দেয়। তাদের কথায় সম্মতি দিলে সাদুল্লাপুরের এক পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা নেয় প্রতিবেশী তিনজন। তবে মাত্র ত্রিশ হাজার টাকা আঙ্গুরীর হাতে দিয়ে চারদিন বয়সী নবজাতককে নিয়ে যায় তারা।
নবজাতকের মা আঙ্গুরী বেগম বলেন,ক্লিনিকের  টাকা পরিশোধ করতে না পারায় শিশুটিকে নিয়ে যায় প্রতিবেশীরা। সরকারি লোকজন আমার  বাচ্চাকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেয়ায় আমি খুব খুশি।
নবজাতকের বাবা-মা জানান, ত্রিশ হাজার টাকা পেলেও সেখান থেকে যমুনা ক্লিনিক বিল পরিশোধে চলে যায় সতেরো হাজার টাকা। তবে উল্লেখিত গাইবান্ধা যমুনা ক্লিনিকের মালিক ফরিদুল হক সোহেল অস্বীকার করে বলেন, পরীক্ষা নিরীক্ষার টাকা সহ সর্বমোট ১০ হাজার টাকা দিয়েই তারা এখান থেকে বাচ্চাসহ সুন্দরভাবে চলে যায়। তারা কি অবস্থায় কার সঙ্গে কি কথাবার্তা হয়েছে সেটা আমি জানি না।
হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেন । স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে সাদুল্লাপুর থেকে নবজাতকটি উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক।
টাকার বিনিময়ে নবজাতককে অন্যের হাতে তুলে দেয়ার সাথে জড়িত হারুন ও জাফরকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। যাদের হাতে নবজাতকটিকে তুলে দেয়া হয়েছিলো তাদের নাম ঠিকানা জানে না শিশুটির বাবা-মা।
কিন্তু বুকের ধন বুকে ফিরে পাবার দশ মিনিট পর আবারো শিশুটিকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী জাফর, অলিউল ও হারুন। ঘটনাটি আবারো সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন কলেজ শিক্ষক মিন্টু। এতে বারোদিন পর আবারো সাদুল্লাপুর থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here