আশুলিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে টিটোর সমাধিফলকে সাংবাদিকদের পুষ্প অর্পণ।

0
29

মোঃসোহান আহমেদ সানাউল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

১৪ ডিসেম্বর, সাভার-আশুলিয়া মুক্ত দিবস। দিবসটিতে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে  সাভারের ডেইরি ফার্ম গেটে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর টিটোর সমাধিফলকে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও পুষ্প অর্পণ করেন সাংবাদিকরা। প্রতি বছরের মতো সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সময় টেলিভিশনের সাব-ব্যুরো প্রধান মোজাফফর হোসাইন জয় এর নেতৃত্বে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকগণ টিটোর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন।

এব্যপারে সময় টিভির সাব-ব্যুরো প্রধান ও আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোজাফফর হোসাইন জয় বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তৎকালীন গঙ্গারবাগ বর্তমান ঘোষবাগের কাঁঠালবাগানে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যে যুদ্ধটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নাছির উদ্দীন ইউসুফ (বাচ্চু) যিনি বর্তমানে চিত্রপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং গেরিলা যুদ্ধ নামের একটি চলচিত্র তাঁর মাধ্যমে নির্মিত হয়েছে। ওনার নেতৃত্বেই সেদিন কাঁঠালবাগানের যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। আর মানিকগঞ্জের সেওতা গ্রামের গোলাম দস্তগীর টিটো ছিলেন একজন কিশোর যার বয়স ছিলো তখন মাত্র ১৪ বছর। সে এতটাই আমুদে স্বভাবের ছেলে ছিলো যে গেরিলা যোদ্ধাদের দিনে এবং রাতের বেলায় আমোদ প্রদান করে তাদেরকে উজ্জীবিত রাখতো। পাশাপাশি সে ছিলো স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোঁর।

মোজাফফর হোসাইন জয় আরও বলেন, এই সমাধিস্থলটি যা দেখছেন তা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে এই ডেইরি গেটেই মূলত তাকে সমাহিত করা হয়। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ৩০ বছর! এই ৩০ বছরে সমাধিস্থলটি যখন মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিলো তখন বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সেই সময়ের সেনাবাহিনী প্রধান এই কবরটি বাধাই করে এই স্মৃতিফলক দ্বারা এটিকে চিহ্নিত করেন। এর ৭/৮ বছর পর থেকে আমরা সাংবাদিকরা একটি উদ্যোগ গ্রহন করি যে সার্বিকভাবে যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্মারক জাতীয় স্মৃতিসৌধ অবস্থিত, সেখানে এই সাভারকে মুক্ত করতে যারা আত্মাহুতি প্রদানের মাধ্যমে এই সাভারকে মুক্ত করেছেন, কেনো আমরা তাদেরকে স্মরণে রাখবো না? সেই ২০১১ সাল থেকে আমরা ১৪ ডিসেম্বরকে সাভার-আশুলিয়া মুক্ত দিবস ঘোষণা করে দিবসটি উদযাপন করে আসছি। আমাদের গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন মিডিয়ায় এসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এর পরেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অবজ্ঞা ও অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে। আমাদের দাবী স্থানীয় প্রশাসন যাতে সরকারীভাবে উদ্যোগ নিয়ে এই দিবসটি উপলক্ষে একটি কার্যকরী ভূমিকা গ্রহন করে যাতে কিনা ঘোষণার মাধ্যমে ১৪ ডিসেম্বর সাভার-আশুলিয়া মুক্ত দিবসটি সারা বাংলাদেশে জাগরণ তৈরী করবে এবং ঠিক তেমনি সরকারীভাবে নথিভুক্ত হবে শহীদ গোলাম দস্তগীর টিটোর শাহাদাৎ বরণ।

প্রসঙ্গত, গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটো মানিকগঞ্জ জেলার উত্তর সেওতা গ্রামে ১৯৫৬ সালে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে এই তরুন ছাত্র স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে ১৯৭১ এর ১৪ ডিসেম্বর সাভারের কলমা গ্রামে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে এক সম্মুখ সমরে শাহাদাৎ বরণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here