রৌমারীতে লজিক প্রকল্পের প্রায় কোটি টাকা নয়ছয় “শিরোনামে” প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ।।

0
142

বাংলার রূপ

রৌমারী (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ

গত ১ অক্টোবর ২০২০ তারিখ দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক জবাবদিহিসহ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় “রৌমারীতে লজিক প্রকল্পের প্রায় কোটি টাকা নয়ছয়” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে যা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটি সম্পূর্ণ ভূয়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
প্রকৃতপক্ষে গত ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে রৌমারী উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (লজিক) প্রকল্পের আওতায় ৯৭,৭৫,০০০/- (সাতানব্বই লক্ষ পঁচাত্তুর হাজার) টাকা ব্যয়ে সর্বমোট ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে রাস্তা মেরামত, বৃক্ষরোপন (বাসক পাতার চারাসহ), পাবলিক টয়লেট স্থাপন, গোড়া পাকাকরণসহ টিউবওয়েল স্থাপন, রিং কালভার্ট নির্মাণ, গাইডওয়াল নির্মাণ, রিপর‌্যাফ নির্মাণ।
সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জন্তিরকান্দা গ্রামে পাটের বস্তায় মাটি ভরাট করে গাইডওয়াল নির্মাণ। চর বন্দবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন (এলজিএসপি)’র প্রকল্প দিয়ে ৩ বছর আগে হিয়ারিং করা হলেও একই রাস্তায় লজিক প্রকল্প বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
প্রকৃতপক্ষে জন্তিরকান্দা গ্রামে গাইডওয়াল নির্মাণের একটি প্রকল্প ছিল কিন্তু যে স্থানে গাইডওয়াল নির্মাণ করা হবে তা অনেক গভীর হওয়ায় স্থানীয় জনগণ ও ইউপি চেয়ারম্যানের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে গাইডওয়াল নির্মাণের স্থলে রিপর‌্যাফ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয় এবং তা বাস্তবায়িত হয়। চর বন্দবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলজিএসপি প্রকল্প দিয়ে যে রাস্তাটি হেরিং বোন করা হয়েছিল লজিক প্রকল্প দিয়ে সে রাস্তা না করে পাশের অন্য আরেকটি রাস্তা হেরিং বোন করা হয়েছে।
সংবাদে আরো উল্লেখ আছে যে, প্রকল্পগুলির ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরাই হচ্ছেন ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। প্রকৃতপক্ষে তা নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণপূর্বক ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে মেসার্স নাহার ট্রেডার্স ও মেসার্স ছাদিকুল ট্রেডার্স, শৌলমারী ইউনিয়নে মেসার্স সাফিন এন্টারপ্রাইজ, বন্দবেড় ইউনিয়নে মোঃ হারুনর রশিদ, রৌমারী ইউনিয়নে রেজাউল করিম সেলিম, মেসার্স ফুয়াদ এন্টারপ্রাইজ, নকশী মোবাইল প্যালেস ও মেসার্স বিউটি কনষ্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।


লজিক প্রকল্পের আওতায় দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে ৪টি, শৌলমারী ইউনিয়নে ৪টি, বন্দবেড় ইউনিয়নে ৩টি ও রৌমারী ইউনিয়নে ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। রৌমারী উপজেলাটি ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বেষ্টিত একটি উপজেলা। প্রতিবছর বন্যায় এ উপজেলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এ বছর ৬ দফা বন্যায় লজিক প্রকল্পসহ অন্য অনেক প্রকল্পের কাজের ব্যাপক ক্ষতি হয়। লজিক প্রকল্পের আওতায় যে সকল রাস্তার মেরামত কাজ করা হয়েছে তা বন্যার কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাসকপাতার চারাগুলি বন্যার পানিতে ডুবে কিছু মারা গেছে এবং কিছু চারা এখনো জীবিত রয়েছে। রাস্তা মেরামত ছাড়াও রিং কালভার্ট নির্মাণ, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, টিউবওয়েল স্থাপন, গাইডওয়াল নির্মাণ, রিপর‌্যাফ নির্মাণ প্রকল্পগুলি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণ সুফল পাচ্ছে। কোন মহল থেকে লজিক প্রকল্পের কাজের বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কিছু সাংবাদিক উপজেলা প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যানসহ রৌমারী উপজেলার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে উপরোক্ত সংবাদটি প্রকাশ করেছে।
আমি মোঃ আল ইমরান রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here