রৌমারীতে গো খাদ্যের সঙ্কটে সস্তা দরে বিক্রি হচ্ছে গরু ও ছাগল।।

0
34
এলাহি শাহরিয়ার নাজিমঃ
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কোরবানি ঈদে বাড়তি আয়ে বিক্রয়ের জন্য পালিত গরু ও ছাগল নিয়ে ব্যাপক চিন্তায় পড়েছে রৌমারী বাসী। দফায় দফায় বন্যা হওয়ার কারণে বিক্রেতার আশা বিফলে চলে গেছে। বন্যার পানিতে প্লাবিত মাঠের সবুজ ঘাস পাশাপাশি সংরক্ষিত খড় পঁচে যাওয়ায় খাবার যোগান দিতে পারছেনা। ফলে বাধ্য হয়ে স্বল্প দামে বিক্রি করতে হচ্ছে গরু, ছাগল ও ভেড়া।
২৭ জুলাই সোমবার রৌমারী পশু হাটে এমন অবস্থা দেখা যায়।
উপজেলার ফলুয়ার চরের লাল চাঁন মিয়া জানায়, চারিদিকে বন্যার পানির কারণে চুলোয়  আগুন ধরাতে অনেক সময় ধরে চেষ্টা করতে হয় তাই শুকনো খাবার খেয়ে দিনরাত পাড়ি দিতে হয়।
কোরবানির ঈদে বেশি আয়ে বিক্রি করার জন্য এবার তিনটি গরু খুব যত্ন সহকারে পুষেছি কিন্তু গো খাদ্যের অভাব দেখা দেওয়ায় বিক্রি করে দিয়েছি অল্প দামে। তিনটি গরুর দাম দুই লক্ষ টাকা হলেও আমাকে বিক্রি করতে হয়েছে মাত্র একলক্ষ বিশ হাজার টাকায়।
বামনের চরের আয়নাল হক বলেন, দিন মজুরির পাশাপাশি গাভীর দুধ বিক্রি করে সংসার চালিয়েছি কিন্তু ঘাঁসের অভাবে বাধ্য হয়ে দুইটি গরু ও একটি ছাগল বিক্রি করতে হচ্ছে। বন্যার পানি দীর্ঘদিন থাকায় আমার প্লাবিত বাড়িতে গরুর পায়ে ঘা হয়ে গেছে তাই হাটে তুলেছি তাই অল্প দাম হলেও দিতে হবে।
ট্রাক মালিক সৌরভ বলেন, বন্যার কারণে ঢাকা পথে রৌমারী থেকে শেরপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে খাদ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতি টিপে আট থেকে দশ হাজার টাকা করে ভাড়া কমে গেছে।
রৌমারী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এপিএম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ২টি মেডিকেল টিম গঠন করেছি। তারা ইতোমধ্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’
প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেডিকেল টিম যাচ্ছে না এমন অভিযোগে তিনি বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে সমস্যা গুলো হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, বছরের প্রথম থেকে গরু মোটাতাজাকরণে বিভিন্ন রকমের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে যাতে কোরবানি ঈদে কৃষক ভালো টাকা আয় করতে পারেন কিন্তু বন্যার কারণে তা হচ্ছেনা।
গোখাদ্য অভাবের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা হাই অফিসিয়ালকে গোখাদ্যে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে একটি আবেদন পাঠিয়েছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here