পুত্রবধূর নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধ দম্পতির পাশে গুরুদাশপুরের ইউএনও।।

0
20

মনিরুজ্জামান মনির,

বাংলার রূপ গুরূদাশপুর নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোরের গুরুদাসপুরে ৮০ বছরের বৃদ্ধ খোরশেদ আলী ও তার স্ত্রী আয়শা খাতুনক (৭৫)কে তাদের  ছেলের বউ নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।বৃদ্ধ এই দম্পতির তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে, নাতিও হয়েছে। বৃদ্ধ দম্পতির বাড়ি উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের দুর্গাপুর মধ্যপাড়া গ্রামে।
ওই গ্রামের প্রতিবেশী অনেকে অভিযোগ করে  জানান, বৃদ্ধ দম্পতি একটি ছাপরা ঘরে থাকেন। তাও ঝড়ে ভেঙে গেছে। জোড়াতালি কোন রকম  ওই ঘরেই থাকেন তারা। বয়স হওয়ার কারণে চোখেও দেখেন না ঠিক করে। খেয়ে না খেয়ে দুঃখ কষ্টে চলছে তাদের জীবন। বাড়ির জায়গা ছাড়া তাদের কোন জায়গা জমি নেই। তিন ছেলের খরচে চলেন তারা। বড় দুই ছেলে থাকেন অন্য জেলায়। তাই ছোট ছেলের সাথেই থাকতেন এই দম্পতি, কিন্তু ছোট ছেলে বাহারের স্ত্রী মঞ্জু বেগম (৩৭) শাশুড়িকে মাঝেমধ্যেই মারধর করে। হাতের কাছে যখন যা পায় তাই দিয়ে মারে। প্রতিবাদ করলে খাবার বন্ধ করে দিতেন।

অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বৃদ্ধ এই দম্পতি  সোমবার (২২ জুন) দুপুরে গুরুদাসপুর থানায় অভিযোগ করেন।
বৃদ্ধ খোরশেদ বলেন, সরকারের দেয়া বয়স্ক ভাতায় কোন রকমের দিন পার করি। সন্তানরা কোন খরচ দেয় না। তার ওপর পুত্রবধূ নির্যাতন করে। তাই বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন।

এ ব‍্যাপারে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাহারুল ইসলাম জানান, খোরশেদ আলীর অভিযোগ পেয়েছেন। বাদী অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার পুত্র ও পুত্রবধূকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ পাঠানোর প্রস্তুতির সময় খোরশেদ আলী নিষেধ করেছেন। তাই তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২/১ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় মিমাংসা করা হবে বলে জানান।
অন‍্যদিকে সোমবার বিকেলে পুত্রবধুর হাতে বৃদ্ধ দম্পতির নির্যাতনের খবর পান গুরুদাশপুরের ইউএনও মোঃ তমাল হোসেন। তৎখনাত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এই কর্মকর্তা। বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে গিয়ে তাদের সার্বিক সমস্যার কথা শোনেন।তাই বৃদ্ধ দম্পতির কষ্ঠ কিছুটা লাঘবের জন্য আর্থিক অনুদান তাদের হাতে তুলে দেন ইউএনও তমাল হোসেন এবং তাদের ঘরটি মেরামত করে দিবেন বলেও তাদের তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তমাল হোসেন জানান, বিকেলে বৃদ্ধ দম্পতির পুত্রবধুর হাতে নির্যাতনের ঘটনা শোনার পর তৎখনাত ঘটনাস্থলে যাই। ওই দম্পতির বাড়িতে গিয়ে তাদের ছেলের স্ত্রীর সাথে কথা বলি এবং তাদের সার্বিক সমস্যার কথা শুনি। পুত্রবধুকে প্রাথমিক পর্যায়ে নিষেধ করা হয়েছে। শশুড়-শাশুড়ীকে যেন নির্যাতন না করে এবং ঠিক মত যত্ন নেয়। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও ওই দম্পতির পুত্রবধুকে জানানো হয়েছে। তাদের ঘরটি বসবাসের উপযুক্ত না। এ জন্য নগদ কিছু অর্থ তাদের দুজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং ঘরটি মেরামত করে দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here