ক্যাপ্টেনসহ ওই ৬ চীনা নাবিক অবশেষে ২৪ ঘণ্টা পর সুস্থ হয়েছেন।

0
7

বাংলার রুপ,নিউজ ডেস্ক।।

মোংলা বন্দরে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে আসাএমভি ‘চ্যাং হ্যাং জিং হাই’ নামক চীনা পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজের করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে ৬ চীনা নাবিক বন্দরের হারবাড়িয়া এলাকায় অবস্থান করছিলেন। শারীরিক অসুস্থ ক্যাপ্টেনসহ ওই ৬ চীনা নাবিক অবশেষে ২৪ ঘণ্টা পর সুস্থ হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল)  দুপুরে বন্দরের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সদস্যরা পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুস্থতার ছাড়পত্র প্রদান করে ওই ৬ নাবিকের। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাহাজটি মোংলা বন্দরে ভেড়ার পর ওই জাহাজের ক্যাপ্টেনসহ ৬ চীনা নাগরিকের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ পরিলক্ষিত হওয়ায় তাদেরকে ওই জাহাজের মধ্যেই আইসোলেশনে রাখে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের জন্য শ্রমিক কর্মচারীদের পাঠিয়েছে পণ্য খালাসকারী প্রতিষ্ঠান (ইস্টিভিডরস) মেসার্স গ্রিন এন্টারপ্রাইজ।
ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা বোঝাই করে গত ১ এপ্রিল ‘মের্সাস চ্যাং হ্যাং জিং হাই’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে ৩০ হাজার মে. টন কয়লা খালাস করে। কিন্তু সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের পরীক্ষায় ২০ নাবিকের মধ্যে বেশ কয়েকজন নাবিকের শরীরে জ্বরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থানকালে সব নাবিক ওই জাহাজের মধ্যেই ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।
জাহাজে থাকা কয়লা থেকে চট্টগ্রামে খালাস করার পর সোমবার দুপুরে বঙ্গোপসাগর হয়ে বহির্নোঙর দিয়ে মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া ৩নং মুরিং বয়ায় নোঙর করে বাকি কয়লা খালাসের জন্য। পণ্য খালাসকারী প্রতিষ্ঠান কয়লা খালাসের জন্য শ্রমিক নিয়োগ করে জাহাজে পাঠায়।
মোংলা বন্দরের করোনা ভাইরাস পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান ডা. সুফিয়া খাতুন ও ডা. আসিফের সমুন্নত একটি টিম জাহাজে প্রবেশ করে এবং ক্যাপ্টেনসহ ওখানে থাকা ২০ নাবিককে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করা হয়। ২০ নাবিকের মধ্যে জাহাজের ক্যাপ্টেনসহ ৬ চীনা নাবিকের শরীরে পুনরায় তাপ মাত্র বৃদ্ধি পাওয়ায় সাথে সাথে জাহাজের পণ্য খালাস বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
মুহূর্তের মধ্যে জাহাজে থাকা সকল শ্রমিক ও অন্যান্য স্টাফরা জাহাজ থেকে নেমে পরে। ডা. সুফিয়া খাতুন ক্যাপ্টেনসহ ৬ নাবিককে জাহাজের মধ্যেই আইসোলেশনে রাখে। মঙ্গলবার দুপুরে পুনরায় পরীক্ষায় তাদের শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া নাবিকদের সুস্থতার ছাড়পত্র দেয়া হয় এবং জাহাজে পণ্য খালাস চালু করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মোংলা পোর্ট হেলথ অফিসার ডা. সুফিয়া খাতুন জানান, বিদেশি ওই ৬ জন নাবিকের শরীরে স্বাভাবিকের চাইতে জ্বরের মাত্রা বেশি পাওয়ায় তাদেরকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার দিনে পুনরায় জাহাজের ওই নাবিকদের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। এতে তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে নাবিকদের ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন জানান, মোংলা বন্দরে কোন জাহাজ আসলেই আগে তার নাবিকদের শারীরিক নিরীক্ষা শেষে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে পণ্য বোঝাই খালাসের অনুমতি দেয়া হয়। তাই এ জাহাজটির মধ্যে নাবিকদের শরীরের কিছুটা সমস্যা ছিল তা এখন ঠিক হয়েছে।
এর আগে গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তায় ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা বোঝাই করে মোংলা বন্দরে খালাসের উদ্দেশ্যে আসা অপর একটি জাহাজের তিন ফিলিপাইন নাবিকের শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। পরবর্তীতে তাদের আইসোলেশনে রাখা হলে তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here