অর্থের ও অনুদানের অভাবে বন্ধ হওয়ার পথে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।।

0
60

 

ইকবাল হোসেন (নবীন)।

বান্দরবান লামা প্রতিনিধি।।

 

বান্দরবান পার্বত্য জেলার  লামা উপজেলার সরই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে  অবস্থিত ধুইল্যাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ।১৯৯৮ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান  মোহাম্মদ আলী শিকদারের  সহযোগিতায় অবহেলিত  এলাকার কোমলমতি   শিশুদের মাঝে জ্ঞানের আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে কৃষক সমশু মিয়ার দানকৃত .৪০শতক জমির উপর নির্মিত হয় বিল্লা পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

এর পর থেকেই শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিকতায়  দুর্গম পাহাড়ি জনপদে  শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে এ বিদ্যালয়টি। শিক্ষকদের নেই কোন বেতন  শিক্ষার্থীদের নেই কোন উপবৃত্তি।  নেই প্রয়োজনমতো অবকাঠামো ফলে  ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণি কার্যক্রম। প্রায় ২৫ বছরের ধারাবাহিকতায়  বৃদ্ধি পাচ্ছে  শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ফলে দেখা দিয়েছে শ্রেণিকক্ষের সংকট।  পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের বসতে হচ্ছে গাদাগাদি করে।

 

বিদ্যালয়টি বেসরকারি হওয়ায়  এবং অত্র এলাকার জনসাধারণ অতিশয় দরিদ্র হওয়ার কারণে পারছেননা বিদ্যালয়টির সমস্যার সমাধান করতে।  শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না কোনো সরকারি  সুযোগ-সুবিধা।  নেই বিশুদ্ধ পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা। উপবৃত্তির ব্যবস্থা না থাকায় অত্র এলাকার অতি দরিদ্র মানুষের ছেলে-মেয়ের শিক্ষার খরচ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

 

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ  জসিম উদ্দিন  “বাংলার রূপ” কে জানান অত্র বিদ্যালয়ে আমরা চারজন শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবৎ সম্পূর্ণ বিনা বেতনে খেয়ে না খেয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে  শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। অথচ বিদ্যালয়টি তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে জেলা-উপজেলা জাতীয়করণ সংক্রান্ত কমিটির পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সুপারিশ করা হয় সকল কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও দুর্ভাগ্যবশত  জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে, যার ফলে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছি।

 

এ ব্যাপারে সরই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম “বাংলার রূপ” কে বলেন আমার ইউনিয়নের ধুইল্যাপাড়া গ্রামের অন্তত পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় বিদ্যালয়টির গুরুত্ব অপরিসীম। অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে যাচ্ছে। তাই  আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের  দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের আওতায় আসে। শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং স্কুলটি যাতে বন্ধ না হয়। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়টির টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সরকারিকরণের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় ও বান্দরবান জেলা পরিষদের সহযোগিতা কামনা করেন এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here