সিগন্যাল অমান্য করায় দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ।

0
152

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেল স্টেশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে ।

‘উদয়নের’অনেকগুলো বগিই তখন ১ নম্বর লাইনে চলে এসেছিল। এ সময় সিগন্যাল অমান্য করে তূর্ণা নিশীথা স্টেশনে না থেমে প্রধান লাইন বরাবর এগোতে থাকে। এতে উদয়ন এক্সপ্রেসের শেষদিকের কয়েকটি বগির ওপর তূর্ণা নিশীথার কয়েকটি বগি উঠে যায়। এতে উদয়ন এক্সপ্রেসের অন্তত তিনটি বগি দুমড়েমুচড়ে যায় বলে  সিগন্যালম্যান সারোয়ার জামাল জানান।

 

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সারোয়ার জামাল বাংলার রূপ নিউজ টোয়েন্টিফোর কে আরও বলেন,এরই মধ্যে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। আশা করা যায়, দুপুরেই আগেই এই পথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

 

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি আলাদা আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র,থেকে জানা যায়।

 

ঘটনার পর পরই মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ ছুটে আসেন। তাঁরা প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের খবর পেলে ঘটনাস্থলে এসে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকালের দিকে স্টেশন এলাকায় হাজার হাজার মানুষের জটলা তৈরি হয়। এতে উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হয়।

 

এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা বাংলার রূপ নিউজ টোয়েন্টিফোর কে জানান, দুটি কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।তার মধ্যে হল “তূর্ণা নিশিতার” চালক ভুল করে সিগন্যাল অমান্য করেছেন। অথবা ঘন কুয়াশার কারণে সিগন্যাল আন্দাজ করতে পারেননি।দুটোর যেকোনো একটি কারণ হতে পারে বলে তাদের ধারণা।তবে এলাকাবাসীরা জানান মধ্যরাত থেকেই ঘন কুয়াশা ছিল যার কারণে কাছের জিনিস আন্দাজ  করাও কঠিন ছিল।

 

এই ঘটনায় হতাহতদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, ছয়জন নারী ও তিনটি শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। আহতদের  চিকিৎসার জন্য কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল, আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে এরইমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা,সহ বিভিন্ন প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উদ্ধার কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন।

 

সংঘর্ষের পর ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট পথে রেল যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী ট্রেন পৌঁছেছে। তারা দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here