১০ দিনেও মেলেনি সহায়তা,বামনায় হতদরিদ্ররা বিপাকে।

0
15

মোঃ অপু মিয়া

বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে গত ১লা জুলাই থেকে দেশব্যাপী চলছে কঠোর লকডাউন। বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এতে কর্ম হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্মআয়ের মানুষ। চলমান লকডাউনের দশম দিনেও বরগুনার বামনা উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে সহায়তা দেওয়া হয়নি। তবে উপজেলা পিআইও’র দপ্তর থেকে লকডাউন শুরু হওয়ার পূর্বেই চাল ও নগদ অর্থ সকল ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দ দিলেও এখন পর্যন্ত সে সহায়তা পায়নি উপকারভোগীরা। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে নিম্ম আয়ের মানুষ।

বামনা উপজেলা শহরের গোলচত্বরের বিভিন্ন চায়ের দোকানে পানি বহনের কাজ করতেন উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের গহর আলীর স্ত্রী সেলিনা বেগম। প্রতি ৫ কলসি পানি দিয়ে তিনি আয় করতেন ২৫ টাকা। এতে দিনে তার প্রায় ২৫০ টাকা আয় হতো। সেই টাকায় চলতো তার দুই প্রতিবন্ধী সন্তানসহ ৫ সদস্যের সংসার। করোনায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে বন্ধ রয়েছে ছোট ছোট চায়ের দোকানও। ফলে কর্ম হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন পানি পরিবহন শ্রমিক সেলিনা, জাকিয়া ও হাসিবরা।

পানি পরিবহন শ্রমিক সেলিনা বামনা সাংবাদকে জানান, গত দশদিন ধরে কোনো রোজগার নেই। ঘরে যেটুকু চাল অবশিষ্ট ছিল তাও শেষ। অন্যের ঘর থেকে চাল ধার উনুনে হাড়ি জ্বালাতে হচ্ছে।

বামনা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলমান লকডাউনে হতদরিদ্রের মাঝে বিতরণের জন্য বামনা উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ৪ লাখ ৩ হাজার টাকা নগদ ও প্রতিটি ইউনিয়নে ১ লাখ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত জুন মাসের ২৪ তারিখ চাল ও ২৭ তারিখে নগদ টাকা বরাদ্দ দেয় পিআইও দপ্তর।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রকল্প সুপারভাইজার মো. মাহফুজ হোসেন জানান, উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ববর্তী চেয়ারম্যানদের বরাদ্দ বিতরণের জন্য বারবার বলা হলেও তারা এগুলো বিতরণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে দ্রুত বিতরণের তাগিদ দিলেও এখন তালিকা করা সম্ভব হয়নি বলে চেয়ারম্যানরা জানায়।

বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুজ্জামান সগির বলেন, আমরা দু-একদিন আগে বরাদ্দ পেয়েছি। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস আমাদের ব্যাকডেটে বরাদ্দ দিয়েছে। তালিকা তৈরির কাজ চলছে। শেষ হলেই উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সইদুর রহমান সবুজ বলেন, আমার সচিব করোনা আক্রান্ত। ফলে সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম এখন শুরু করা সম্ভব হয়নি।

ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আমি গরিব অসহায় মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। তাই সহায়তার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা করা হচ্ছে। এজন্য এই বরাদ্দ বিতরণে দেরি হচ্ছে।

বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সরকার বলেন, আমি সকল চেয়ারম্যানদের সাথে অনেকবার কথা বলেছি। বরাদ্দগুলো সঠিকভাবে যেন উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয় তার ব্যবস্থা নিতে দরকার হলে আমি নিজে উদ্যোগ গ্রহণ কর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here