শেরপুরের এলাকা ভিত্তিক প্রভাবশালীদের দখলে ব্রীজ কালভার্টের মুখ।

0
39
এ জেড হীরা
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
 
 উত্তরাঞ্চলের প্রবেশের মুখেই বগুড়া জেলার প্রধান একটি  উপজেলার নাম শেরপুর উপজেলা।ঐতিহ‍্যের দিক থেকে নামখ‍্যাতি কম নেই এ উপজেলাটির । প্রাচীনতম পৌরসভা আর ১০ টি ইউনিয়ন নিয়ে  বিস্তৃত বিশাল আয়তনে গঠিত  শেরপুর উপজেলা। এই  উপজেলাটি কৃষি নির্ভর  অঞ্চলে হিসেবে  পরিচিতি আছে।
এই উপজেলায় যোগাযোগ ব‍্যবস্হার জন‍্য পাকা কাচা আঞ্চলিকও গ্রামীন জনপদে   রয়েছে  অসংখ‍্য সড়ক পথ। এসব সড়কের  তলদেশ দিয়ে  রয়েছে কয়েক  যুগের স্থাপিত শত শত ছোট ছোট ব্রীজ আর কালভার্ট। এসব ব্রীজের মুখদিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসছে বৃষ্টির স্বাভাবিক  পানি। এক সময় দেখা  গেছে  ব্রীজের মুখ দিয়ে উজানের পানি তীব্র গতিতে নিন্মাঞ্চলের দিকে  প্রবাহিতের  দৃশ‍্য। বেশ কয়েক বছর যাবত লক্ষ করা যাচ্ছে  উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মধ‍্যে বিশেষ করে ব‍্যবসা বানিজ‍্য কল কারখানা  স্হাপনের জন‍্য  উল্লেখ যোগ‍্য  ভবানীপুর, মির্জাপুর, শাহবন্দেগী, সীমাবাড়ী এবং  কুসুম্বী  ইউনিয়নের বিভিন্ন  সড়কের পাশে চড়া মুল‍্যে  ধন‍্যাঢ‍্য প্রভাবশালী ব‍্যক্তিরা  কারো পৈত্রিক  সম্পত্তির অজুহাত   আবার  কেউ কিনে নিয়ে  ফসলি জমিগুলো  মাটি দিয়ে  ভরাট করে  সরকারি  নিয়ম কানুন না মেনেই   বিভিন্ন  সড়কের ব্রীজও কালভার্টের  মুখ বন্দ করে  অনেকেই গড়ে তুলেছেন মিলচাতাল, কারখানা, সহ স্হায়ী বাড়ী ঘর  কেউ কেউ সরকারি  নিষেধাজ্ঞা অমান‍্য করে  খনন করেছেন পুকুর ।  এসব  প্রতিপত্তি প্রভাবশালীরা অনেকেই   রাজনৈতিক ছত্রছায়ার আড়ালে  থেকে সরকারি সম্পদের জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে জড়িয়ে গেছেন বেশ দাপট নিয়ে। আবার কেউ সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে  মুখ বন্দকরে বাড়ীঘর সহ বিভিন্ন  প্রতিষ্ঠান  এক রকম  প্রশাসনিক বাধাহীন ভাবে  অনায়াসে  নির্মান করে ফেলেছেন।
 এসব ঘটনায় কোন জনপ্রতিনিধি এমন কি সরকারি কোন কর্মকর্তাদের   চোখে আজও  অন্ধকার রয়ে গেছে। এসব দখল প্রতিযোগিতার কবলে পড়ে গিয়ে পানি নিঃস্কাশনের  গতিপথ হারিয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্রীজ কালভার্টের  মুখ।  ব্রীজের মুখ দখলে নিয়ে রাতারাতি  প্রভাবশালী বনে যাওয়া  এসব ব‍্যক্তিরা পানি  প্রবাহের জন‍্য নুন‍্যতম বিকল্পব‍্যবস্হা ও  পরিকল্পনা না করে ব্রীজের মখু গুলো গিলে ফেলেছেন দমকা হাওয়ার মতো।
 দীর্ঘ দিনের এসব ব্রীজও কালভার্টের  মুখ গুলো  প্রকাশ‍্যে বন্দ করে দেওয়ার ফলে বিশেষ করে বর্ষা কালের অতি বৃষ্টি বাদলের পানিতে সংশ্লিষ্ট উজান এলাকায় সৃষ্টি হয়ে যায় জলাবদ্ধতা।  এমনকি আটকে থাকা  এই পানি প্রবাহিত না হওয়ার ফলে বাড়ী ঘরে পর্যন্ত পানি প্রবেশ করার নজিরও  রয়েছে ।
সর্বপুরি  কৃষিপ্রধান এঅঞ্চলের বিশেষ করে আমন মৌসুমে  দিনের পর দিন পানি আটকে থাকার কারনে  আমন ধানের চারা  স্বাভাবিক নিয়মে রোপন করতে পারেনা উপজেলার  বিভিন্ন  গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা।  চলতি মৌসুমেও সঠিক সময়ে  ব‍্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন কৃষিকাজ নিয়ে।
ব্রীজ কালভার্টের মুখ বন্দ করে দেওয়ার ঘটনা গুলো নজরে পড়লে   বিষয়টি নিয়ে উপজেলার  প্রত‍্যন্ত জনপদে  একজন সংবাদকর্মী হিসাবে  অনুসন্ধানে  নেমে   এবং ব্রীজ কালভার্ট মুখ বন্দের  বিষয়টি   সরজমিনের তথ‍্য  সংরক্ষন করে সংগৃহিত তথ‍্যের  আলোকে  সচিত্র প্রতিবেদন  প্রকাশের উদ্যোগ  নেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here