রৌমারীতে প্রধান শিক্ষকের অগোচরে পিচ গলানো হচ্ছে স্কুল মাঠে, ঝুঁকিতে নবনির্মিত ভবন।

0
22
এলাহী শাহরিয়ার নাজিম
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
নির্মাণ সামগ্রী রেখে রাস্তা সংস্কার কাজ চলছে বাজার সংলগ্ন নবনির্মিত চারতলা ভবনের স্কুল মাঠে। এতে বিষাক্ত ধোঁয়া, ধুলাবালু ও বিটুমিন (পিচ) গলানোর দুর্গন্ধে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন বাজারের
ক্রেতা-বিক্রেতাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। এব্যাপারে  স্থানীয়দের ফল মেলেনি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান বিষয়টি আমলে নিয়ে
উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম খোকনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এঘটনা রৌমারী উপজেলার টাপুরচর বিজি উচ্চ বিদ্যালয়ের।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত টাপুরচর বিজি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্তুপ করে রাখা হয়েছে পাথর, বালি ও খোয়াসহ বিভিন্ন
নির্মাণ সামগ্রী। এ বিদ্যালয় মাঠে এসব সামগ্রী রাখা হয়েছে ছাটকড়াইবাড়ী হতে রৌমারী সরকারি কলেজ পর্যন্ত রাস্তার কাজে। এতে বিদ্যালয়ের পুরোমাঠ বেদখলে গেছে।
একই সাথে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্কুল শিক্ষার্থীসহ এলাকার তরুণ সমাজ।
এছাড়াও মসজিদ থেকে মাত্র ২০ হাত দূরে এসব কর্মযজ্ঞ চলায় বেকায়দায় পড়েছে মুসুল্লিরাও।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলছেন, রাস্তা সংস্কারের বিটুমিনের ড্রাম, পাথর, মিক্সার মেশিনসহ
নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে ওই বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে ড্রামে করে জ্বালানো হচ্ছে বিটুমিন।
মিক্সার মেশিনের ধোঁয়া-ধুলায় একাকার বিদ্যালয় ও বাজার এলাকা। বেশ কয়েকদিন ধরে স্কুলের পাশে
থাকা বাজারের দোকানদার ঠিকমতো তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পাড়ছেনা। পাশাপাশি পিচ ও
পাথর পোড়ানোর ফলে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত দুই
মাস ধরে এ সামগ্রী রাখা হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। পাথর বহনকারী ট্রাক্টরের
আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভবনের দেয়াল, সিঁড়ি ও বাউন্ডারী ওয়াল।
এব্যাপারে উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, ইউএনও মহোদয়
মৌখিকভাবে আমাকে তদন্ত করতে বলা হয়েছিল। পরে সরেজমিন ওই স্কুল মাঠে গিয়ে দেখাগেছে
রাস্তা সংস্কারের নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে ইউএনও স্যারকে বলেছি।
একপ্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য মালামাল স্কুল মাঠে রাখলেও স্কুলের কোন
ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা। তবে ঠিকাদারী কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা লেনদেন করা হয়নি বলে
তিনি বলেন।
স্থানীয় কাপর ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, কসমেটিক ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম, সার ও কীটনাশক
ব্যবসায়ী সোহেল, মিঠু আহমেদ, মাসুদ মিয়া, শাজহান আলীসহ অনেকই অভিযোগ করে।
অবৈধভাবে স্কুলমাঠ দখল করে রাস্তা সংস্কার কাজের পাথরসহ বিভিন্ন মালামাল রাখা হয়েছে।
সেখানে বিটুমিন পোড়ানোর ফলে কালো ধুঁয়া ও ধুলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছিনা।
পাশাপাশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, এতে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে
ঠিকাদারকে মালামাল রাখার অনুমতি দিয়েছেন স্কুল প্রধান শিক্ষক।
এ ব্যাপারে টাপুরচর বিজি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনী বলেন, ঠিকাদার আমাকে না
জানিয়ে নির্মাণ সামগ্রী রাখেন। পাথর বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় স্কুলভবনের দেয়ালে ফাটল ধরে
এবং বাউন্ডডারি ওয়াল ভেঙে যায়।
তিনি আরও বলেন, বিটুমিন পোড়ানোর ফলে নবনির্মিত চারতলা ভবনের রং নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি
নবনির্মিত ভবনের সিঁড়িও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ট্রাক্টর দিয়ে। বিষয়টি আমি ইউএনও ও জেলা
শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি আরও বলেন, নির্মাণ সামগ্রী রাখার বিষয়ে
আমার সাথে কোন টাকা লেনদেন হয়নি।
এ বিষয়ে ওই রাস্তার কাজ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হামিদ ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী আব্দুল
হামিদ বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় রাস্তা সংস্কারের কাজের নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। ওই
এলাকায় রাস্তার পাশে কোনো খালি জায়গা পাওয়া যায়নি। তাই স্কুল মাঠ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্কুলের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে সেটা পূরণ করা হবে।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোক্তার হোসেন এর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল
করলেও তা রিসিভ করেননি তিনি।
‘রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আবারও তদন্ত করতে
বলা হয়েছে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে।
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) মো. শামছুল আলম বলেন, ‘কোন ক্রমেই ঠিকাদারী
নির্মাণ কাজের সামগ্রী স্কুল মাঠে রাখার নিয়ম নেই। তবে এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা
প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, স্কুল মাঠে নির্মাণ সামগ্রীর রাখার
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উপজেলা ইউএনওকে জানানো হচ্ছে। তিনি সরেজমিন গিয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here