রৌমারীতে ট্রাক্টর চাপায় দুই মাসে ৬ জনের মৃত্যু,বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।

0
42

এলাহী শাহরিয়ার নাজিম

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বর্তমানে আতঙ্ক’র আরেক নাম হয়ে বালু বা মাটি ভর্তি ট্রাক্টর। অদক্ষ চালক দ্বারা ট্রাক্টর বেপরোয়া চালনায় রাস্তায় বের হয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় সাধারণ মানুষকে। গত দুইমাসে এই উপজেলায় ৬ জনের প্রাণ কেড়ে নেয় বালুভর্তি ট্রাক্টর। এছাড়াও পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছে অনেকেই। একই সঙ্গে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করা ট্রাক্টর সর্বনাশ করছে গ্রামীন রাস্তাঘাট গুলোর। দীর্ঘদিন যাবৎ বালুভর্তি অবৈধ (লাইসেন্স বিহীন) ট্রাক্টর বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসি।
মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সকালে দিকে বালুভর্তি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় হোসেন আলী দূর্জয় (২১) নামের এক কলেজছাত্র। হোসেন আলী মটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি থেকে বাজারে আসার পথে কুটিরচর নামক স্থানে চাপা বালুভর্তি ট্রাক্টর চাপা দিলে ঘটনাস্থলে মৃত্যু বরণ করেন ওই কলেজ ছাত্র। নিহত কলেজ ছাত্র উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের ফলুয়ারচর গ্রামের মমিন চানের ছেলে।
পরে স্থানীয় জনতা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওই ট্রাক্টর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে সাংবাদিক শাহাদত হোসেন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বালু ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন (অব: আর্মি) এর উস্কানিতে তাকে লাঞ্চিত করা হয় এবং ছবি তুলতে গেলে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।
এর আগে ২৫ ফেব্রæয়ারির পরে রৌমারী-দাঁতভাঙ্গা সড়কের চেংটাপাড়া নামক স্থানে বালুভর্তি ট্রাক্টরের নিচে পিষ্ট হয়ে মারা যায় হাছেন আলী (৮২) নামের এক বৃদ্ধ। এছাড়াও বেপরোয়া গতিতে চলা বালুভর্তি ট্রাক্টরের নিচে পড়ে প্রাণ যায় বন্দবেড় গ্রামের নুর জাহান (৪০) এবং উপজেলার বাইটকামারী সড়কে বালুভর্তি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় ছাহেরা খাতুন নামের গৃহবধুসহ ছয়জন।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, রৌমারী উপজেলায় হাজারের ওপর ট্রাক্টর রয়েছে যা দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বালু বহন করে আনা হচ্ছে। এসব ট্রাক্টরের সিংহভাগ চালকের বয়স ২০ বছরের নিচে। তাদের ভারী যান চালানোর কোনো বৈধ প্রশিক্ষন ও লাইসেন্স নেই। এক সময়ে যারা অটোভ্যান গাড়ি চালাত তারাই এখন ট্রাক্টর চালক হয়েছে। এর ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ যাচ্ছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারী। ওইসব ট্রাক্টরের মালিক স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী হওয়ার কারনে দুর্ঘটনা ঘটলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয় না। উপজেলা ও থানা প্রশাসনও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পাচ্ছে না।
রৌমারী উপজেলা মোড় থেকে ফুলুয়ার নৌকাঘাট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ন। বর্তমানে সড়ক খানাখন্দে ভরে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়ক দিয়ে দিনরাত বালুভর্তি ট্রাক্টর চলাচলের কারনে ওই দুরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসি জানিয়েছেন।
বন্দবেড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, প্রতি মিনিটে ৩-৪টা বালুভর্তি ট্রাক্টরের যাতায়াতের কারনে সড়কের কোনো অবস্থাই নাই। বেপরোয়া যাতায়াতের কারনে আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে সার্বক্ষনিক আতংকের মধ্যে থাকি। অপরদিকে ট্রাক্টরের বিকট শব্দ আর ধুলোবালিতে সড়কঘেষা জনবসতিতে ঘরে থাকা যায় না।
এব্যাপারে রৌমারীর ট্রাফিক ইনস্পেক্টর কামরুজ্জামান বলেন, রৌমারী বড় একটি উপজেলা এখানে শতভাগ অনিয়ম/অবৈধ গাড়ি বন্ধ করা অসম্ভব ব্যাপার। প্রতিদিন বিভিন্ন মোড়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ গাড়ি আটক করা হচ্ছে।
বালুভর্তি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনার একটিতেও মামলা না হওয়া প্রসঙ্গে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোন্তাছের বিল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পর পরই নিহতের পরিবারের সঙ্গে ট্রাক্টর মালিক মিমাংসা হয়ে যায়। নিহত পরিবারের কেউ মামলা করতে চায় না। আমরা চেষ্টা করেও মামলায় আগ্রহী করতে পারিনি। তবে আজকের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান জানান, এ বিষয়ে ট্রাক্টর মালিকদের নিয়ে আমরা একাধিকবার বৈঠক করেছি দক্ষ চালক নিয়োগ করতে। এবার কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে ইতোমধ্যে সমস্ত ট্রাক্টর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here