রূপগঞ্জ থানা ঘেরাও করার ঘোষণা ছাত্রলীগের।

0
44

রূপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

রূপগঞ্জ থানা ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ।
সোমবার ( ২৫ জানুয়ারি) বিকালে এ ঘোষণা দিয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাদিম হোসেন অপুর উপর সন্ত্রাসী হামলা ও তার মোটর সাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামীদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার না করলে ছাত্রলীগ থানা ঘেরাও করবে । মানববন্ধনের আয়োজন করে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ। সভায় বক্তব্য রাখেন রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদার ,সহ সভাপতি নাজমুল হাসান সবুজ, সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভুইয়া মাছুম, কয়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ওমর ফারুক ,সাধারণ সম্পাদক নাদিম হোসেন অপু, চনপাড়া শেখ রাসেলনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আরাফাত হোসেন প্রমুখ।
সভায় বক্তরা বলেন, নাদিম হোসেন অপুর উপর সন্ত্রাসী হামলা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ওই ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করলে আগামীকাল বিকাল ৪ টায় রূপগঞ্জ থানা ঘেরাও করা হবে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের থাকার নিদেশ দিয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভুইয়া মাছুম।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, ওরা ছাত্রলীগ করার অধিকার রাখে নাই। তাই রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ তাদের বহিস্কার করেছে।
উল্লেখ্য কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাদিম হোসেন অপুর উপর হামলা ও তার মোটর সাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী আশফাকুল ইসলাম তুষার , আশরাফুল আলম ভুইয়া জেমিনসহ ১১ জনের নামে মামলা হয়েছে। রূপগঞ্জ থানায় মামলা নং ৪৮ ( তাং ২১/০১/২০২১)। তুষার ইছাখালীর সামছুল মিয়ার ছেলে, জেমিন চনপাড়ার মৃত নুরু মিয়ার ছেলে । তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন আবু সালেক এর ছেলে রাসেল, ইছাখালীর রুবেল, সাদ্দাম, শরীফ, নগর পাড়ার শওকত আলী ইমন, চনপাড়ার আবু বক্কার (পিতা মৃত খালেক),পাড়াগাঁওয়ের ফেরদৌস, বরুনার সাকিব, ইছাখালীর ইমন। ২১ জানুয়ারি মামলাটি করেন নাদিম হোসেন অপু।
মামলার অভিযোগ থেকে জানান গেছে , নাদীম হাসান অপু ড্রেজার দিয়ে এলাকার অন্যের জমিতে বালু ভরাটের ব্যবসা করে। মারুফের মালিকানাধীন রূপালী পেপার মিলের নামে ক্রয় করা জমিতে গত ২০ জানুয়ারি সে বালু ভরাটের কাজ করে। বিবাদী ইছাখালীর সামছুল মিয়ার ছেলে তুষার, চনপাড়ার মৃত নুরু মিয়ার ছেলে জেমিন, আবু সালেক এর ছেলে রাসেল, ইছাখালীর রুবেল, সাদ্দাম, শরীফ, নগর পাড়ার শওকত আলী ইমন, চনপাড়ার আবু বক্কার (পিতা মৃত খালেক),পাড়াগাঁওয়ের ফেরদৌস, বরুনার সাকিব, ইছাখালীর ইমন তার উপর হামলা করে। বিবাদীরা নাদিম হাসান অপুর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না পেলে নাদিমকে শান্তি মতো ব্যবসা করতে দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। গত ২০ জানুয়ারি দুপুরে কেওঢালায় রূপালী পেপার মিলের নামে ক্রয় করা জমিতে প্রবেশ করে তারা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে ছাত্রলীগ নেতা নাদিম হাসান অপু অস্বীকার করে। এর পর উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা তাকে পিটিয়ে আহত করে। নাদিমকে তার লেবার রুহুল আমিন ,অপু ,সোহেল, বাদশা বাঁচাতে এগিয়ে আসলে বিবাদী সন্ত্রাসীরা তাদেরকে মারপিট করে। হামলার এক পর্যায়ে জেমিন তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে নাদিমের মাথায় আঘাত করলে তা বাদশা ফিরিয়ে দেয়। বাদশার হাত ভেঙ্গে যায়। ফেরদৌসের হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে রুহুল আমিনের মাথায় কোপ দেয়। এতে সে আহত হয়। শওকত আলী ইমন নাদীম হাসান অপুর শার্টের পকেটে থাকা ৭৫ হাজার ৩ শত ৪০ টাকা নিয়ে যায়। আহতদের ডাকচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে বিবাদী রাসেল ও রুবেল তার জিক্সার মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বিবাদী শরীফ ,শাকিব, সাদ্দাম, আবু বক্কর , রুবেল ঘটনাস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে চলে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তুষার ও শরীফের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here