রূপগঞ্জে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ।

0
11
খোরশেদ আলম,
রূপগঞ্জ,নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
এক টানা বর্ষণে বিভিন্ন শিল্প কারখানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে পানি ঢুকে গেছে অনেক মাছের খামার তলিয়ে গেছে এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে ।কয়েকদিনের সামান্য বর্ষণে বাঁধের ভেতরে অস্থায়ী বন্যার পরিণত  হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এলাকার কোথাও জমেছে হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমর পানি আবার কোথাও অথৈই পানি। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এখানকার মানুষ। ইতিমধ্যে অনেকে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সরকারি নিয়ম কারণ নামে নেই অপরিকল্পিতভাবে ভালু ভরাট ,ভবন ও বাড়ি ঘর নির্মাণ এ জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
 পানি নিষ্কাশনে যাত্রামুড়া ও বানিয়াদি পাম্প  হাউজগুলো কোন কাজে আসে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় ১৯৮৪ সালে ৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩০০ হেক্টর জমি নিয়ে অগ্রণীর নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী অগ্রণী সেচ প্রকল্প ১ ও পরে ১৯৯৩ সাথে ১’শ এক কোটি টাকা ব্যয়ে শীতলক্ষ্যার  পূর্বপাড়ে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি ঘিরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই এ প্রকল্পের ভিতরে শুরু হয় জলাবদ্ধতা জনবসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জনদুর্ভোগ ও। এবারের দূর্গ দুর্ভোগ টা যদি আগের চেয়ে দ্বিগুণ হবে তা কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই অগ্রণী বাসি খুব ভালোভাবেই টের পাচ্ছি গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে দুটি শেষ প্রকল্পের  এলাকার কোথাও জমেছে হাঁটুপানি কোথাও কোমর পানি আবার কোথাও ঠাঁই পর্যন্ত পাওয়া যায় না পুরো বর্ষা ও টানা বর্ষণ শুরু হলে কি হবে এই নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছে অগ্রণীবাসী।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সেচ প্রকল্পের মাসাবো বরপা বাগান বাড়ি, সুতালড়া, আড়িয়াবো,তেতলাব,কর্ণগোপ,মৈকুলী,মিয়াবাড়ি,ভায়েলা,পাঁচাইখা,মোগড়াকুল,পবনকুল,বরাব,খাদুন, বৌবাজার, বাক্মোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, , বিজয়নগর, মদিনানগর, ,শান্তিনগর, বাগানবাড়ি, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো ,যাত্রামুড়া, গোলাকান্দাইল দক্ষিণপাড়া নাগেরবাগ,৫নং ক্যানেল,রূপসী,গন্ধর্বপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার প্রায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
অতি বৃষ্টিতে ঘর-বাড়ির উঠানে পানি উঠেছে। অনেকের বসত ঘরে ৩/৪ ফুট পানি। কারো কারো বসত ঘরে হাঁটু সমান পানি। আবার কারো বসত ঘরে কোমর সমান পানি। রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে। জমির ফসলের গাছ হলদে হয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গবাদি পশু অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। ঘর-বাড়িতে পানি উঠায় কেউ কেউ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ বাঁশের মাচার উপর বসবাস করছে। কয়েকটি শিল্প কারখানায়ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোন কোন স্থানে টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। সে সকল এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া শিল্প কারখানার নির্গত ক্যামিকেল ও দূর্গন্ধযুক্ত কালো পানিতে দূষণ হয়ে রোগাক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। মহিলা ও শিশুরা দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন।
বলাইখা গ্রামের মকবুল মিয়া বলেন, একদিকে লকডাউন অপরদিকে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অতি কষ্টে চলছে নিম্ন আয়ের মানুষের। তাতে দেখা দিয়েছে খাবার সংকট। শিল্প কারখানার নির্গত বর্জ্যে পানি নিষ্কাশন খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্প কারখানার নির্গত গরম পানি জলাবদ্ধতায় মিশে গেছে। তাতে জলাবদ্ধতার পানি কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করেছে। এ পানিতে হাটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানিতে কামড়ায়। পানির কীট-পতঙ্গ সহ মাছ মরে যাচ্ছে। আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
গোলাকান্দাইল এলাকার আর ফাহিম বলেন , রূপগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণে জমির দাম বেশি। তুলনামূলকভাবে নিচু জমির দাম কম। তাই অনেকেই নিচু অঞ্চলে কম দামে জমি ক্রয় করে ঘর বাড়ি নির্মাণ করছেন। আর সে কারণেই নির্মিত ঘর বাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক তারাবো পৌরসভার মেয়র হাছিনা গাজী অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।
তারাবো পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কমিশনার মাহাবুবুর রহমান জাকারিয়া বলেন,অতি বৃষ্টির কারনে নিচু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার সমাধান করা হবে।
গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনজুর হোসেন ভুঁইয়া বলেন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকের প্রচেষ্টায় ১টি ড্রেজার, কয়েকটি সেচ পাম্প ও বেরি বাঁধের বটতলার পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ নুসরাত জাহান বলেন, রূপগঞ্জের বিভিন্ন জায়গার সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনের কাজ চলছে। তা আগামী ২/৩ দিনের মধ্যেই নিরসন করা যাবে বলে আমি আশা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here