বর্তমান চেয়ারম্যান ধর্ষণ মামলায় পলাতক থাকলেও আরো ৬ প্রার্থীর প্রচারণা আগামী নির্বাচনের।

0
22
মোঃ শুভ      
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মীর লিয়াকত আলী একটি ধর্ষন মামলার আসামী হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছেড়ে গাঁ ঢাকা দিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আত‍‍্যগোপন করে পালিয়ে রয়েছেন। আর একারণে এক বছরেরও অধিক সময় ধরে ইউনিয়ন পরিষদে তার উপস্থিতি নেই। কোলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মীর লিয়াকত আলীর অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়ীত্ব পালন করছেন কোলা ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. রোমান শেখ। অন্যদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২১ কেন্দ্র করে কোলা ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশীদের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যেতে  লক্ষ্য করা যাচ্ছে বেশ জোড়ালো ভাবেই। এর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক রনি চৌধূরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কোলা ১ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. কপাশের হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তারণ, কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নুর ইসলাম, কোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হাসান রানা মাসুদ ও উপজেলা বিকল্পধারার যুগ্ন আহবায়ক সাইফুল ইসলাম মিন্টুদের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এ ইউনিয়নে ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকলেও প্রার্থী মো. কপাশের হোসেন, রফিকুল ইসলাম তারণ ও সাইফুল ইসলাম মিন্টুকে অনেকটা তোর জোর করেই নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের সকলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ব্যাপক ভাবে প্রচারণায় নেমেছেন। এছাড়া প্রচার প্রচারণার অংশ হিসেবে ইউনিয়নের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে লাগিয়েছেন নির্বাচনি ব্যানার পোষ্টার।  দেখে মনে হয় ইউপি নির্বাচন যেন ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে। এমনকি জনসাধারণের পছন্দের প্রার্থী হয়ে উঠার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে  হাজির হয়ে কিবাং পৌছে দিচ্ছেন আর্থিক অনুদান। তবে এ ইউনিয়নে ৭জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজেদের ঘোষনা দিলেও প্রার্থী রনি চৌধূরী, মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, মো. নুর ইসলাম, হাসান রানা মাসুদদের প্রকাশ্যে তেমন প্রচার প্রচারণা চালাতে লক্ষ্য করা যায়নি। অনেকটা নিরবেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এদিকে কোলা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মীর লিয়াকত আলী আসন্ন ইউপি নির্বাচন-২০২১ অংশ গ্রহন করবেন কিনা তা ষ্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৭জন প্রার্থীই দলীয় মনোনয়ন  (নৌকা) পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন। তবে উপজেলা বিকল্পধারার যুগ্ন আহবায়ক সাইফুল ইসলাম মিন্টু আওয়ামী লীগের দলীয় লোক না হয়েও ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের  প্রত্যাশা করছেন বলে রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী রনি চৌধূরী বলেন, দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষ এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কোলা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ইউনিয়নের রূপান্তর করতে চাই। কোলা ইউনিয়নকে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তরের অশং হিসেবে সরকারের কাছ থেকে এ ইউনিয়নের বিভিন্ন সম্ভাব্য সমস্যা তুলে ধরে কোলা ইউনিয়নের মানুষদের একটি সুন্দর ও সুষ্ঠ সমাজ তথা একটি ইউনিয়ন উপহার দিতে চাই। যদি আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই তাহলে সরকারী যত বরাদ্দ আসবে সেগুলোর সবটুকুই জণসাধারণের মাঝে সুষ্ঠ বন্টন করবো। এছাড়া যুব সমাজের সাথে সমন্বয় করে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে এ ইউনিয়নকে  মুক্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে যেতে চাই। যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারি তাহলে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের প্রথম দিনেই ইউনিয়ন পরিষদে মতামত ও অভিযোগ বক্স স্থাপন করবো। যাতে করে জণসাধারণের চাওয়া পাওয়া এবং তাদের অভিযোগ আমার কাছে পৌছায়। আমি মনে করি এতে করে কোলার জণসাধারণকে একটি সুন্দর ইউনিয়ন উপহার দিতে পারবো। প্রার্থী মো. নুর ইসলাম বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে সবার আমলনামা রাখা আছে। তিনিই ভালো জানেন কাকে তিনি মনোয়ন দিবেন। তিনি যদি আমাকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোয়ন দেন তাহলে একটি ইউনিয়নকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ ইউনিয়নে রূপান্তর করতে যা যা প্রয়োজন হয় আমি তাই করবো। সেই সাথে ত্যগী নেতাদের মূল্যায়ন করে দলে ফিরিয়ে আনবো এবং আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সর্বদা কাজ করে যাবে। প্রার্থী রফিকুল ইসলাম তারণ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমার প্রতি সদয় হয়ে নৌকা প্রতিক দেন এবং প্রতিক নিয়ে আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে এ ইউনিয়নের লোকজনকে যথাসাধ্য উপকার করার চেষ্টা করবো এবং আমার ইউনিয়নে যে কাজগুলো অসমাপ্ত আছে সেগুলো সমাপ্ত করবো। আর যদি নেত্রী আমাকে মনোয়ন না দেন তাহলে তিনি যাকে মনোয়ন দিবেন তার পক্ষেই কাজ করে যাবো।  মাদকের ব্যাপারে তিনি বলেন, থানার বিভিন্ন মিটিংয়ে  কোলা ইউনিয়নের মাদকের বিষয় উল্লেখ করেছি। প্রত্যাশা নামের আমাদের একটি মাদক বিরোধী সংগঠন আছে। সে সংগঠনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে মাদক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here