আশুলিয়ায় প্রতারণা করে টাকা আদায়ের দায়ে দুই ভুয়া সাংবাদিক আটক করেছে পুলিশ।

দৈনিক বাংলার রূপ

0
23

মোঃসোহান আহমেদ সানাউল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে যুবককে মারধর ও প্রতারণা করে টাকা আদায়ের অভিযোগে দুই ভুয়া সাংবাদিক আটক করেছে পুলিশ। সজিব নামের এক ভুক্তভোগীর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি দায়ের করেন। আটককৃতরা নিজেদেরকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এশিয়ান টিভির সাংবাদিক দাবি করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (১৪ মে) দুপুরে প্রিজনভ্যানে মাধ্যমে তাদেরকে আদালত পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল শনিবার (১৩ মে) বিকেলে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলো- ঝিনাইদহ জেলার মহেষপুর থানার বোয়ালিয়া এলাকার অহিদুল ইসলামের ছেলে আলিফ হাসান (২৫) ও ধামরাই থানার আমছি মোড় এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে পিয়াস আল মনসুর (৪৭)।

ভুক্তভোগী সজিব (৩০) টাঙ্গাইল জেলার দেলোয়ার থানার মুন্সীনগর এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে। সে ধামরাইয়ের থানা স্ট্যান্ড এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো বলে জানা যায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সজিব একজন পোশাক শ্রমিক। তার ধর্ম বোন রোমা বেগম তার স্বামী সন্তান নিয়া আশুলিয়ার শ্রীপুর হালিম ক্লিনিক এলাকায় ভাড়া থাকে। রোমা বেগমের স্বামী অসুস্থ থাকার সংবাদ পেয়ে গত ১২ মে তার স্বামীকে দেখার জন্য তাদের বাসায় যায় ভুক্তভোগী সজিব। বাসায় যাওয়ার সাথে সাথে আটককৃতরা তাদের ৪/৫জন সহযোগী নিয়ে ধর্ম বোনের বাসার ভিতরে প্রবেশ করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অতর্কিত ভাবে তাদের উপর হামলা করে। এ সময় তার বোনের বাসায় থাকা বোনের বড় ভাই নুর আলমকে মারধর করে।

এরপরে ভুক্তভোগী সজিবের নিকট থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় এবং ভুক্তভোগী সজিব ও তার ভাগ্নীকে দাঁড় করিয়ে একত্রে ছবি তুলে। সেই ছবি ইন্টারনেটে ছাড়িয়া দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরো ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। পরে ভুক্তভোগী সজিবের মোবাইলের বিকাশ থেকে আরও ৮হাজার টাকা প্রদান করে। ঘটনার কথা কাউকে জানালে ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে হুমকি প্রদান করে চলে যায়। পরে ভুক্তভোগী সজিব বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিপুল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী সজিবের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা কোনো তথ্য বা সঠিক প্রমাণ দেখাতে পারেনি। পরে অবশ্য পকেট থেকে এশিয়ান টিভির ভিজিটিং কার্ড বের করেছিল। সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি।