সাভার-আশুলিয়ায় ভূয়া দন্ত চিকিৎসকের ছড়াছড়ি।

0
209

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সাভারের আশুলিয়ায় অলি-গলিতে ব‍্যাঙ্গের ছাতার মতো ভুয়া দাঁতের ডাক্তারের চেম্বারে ভরে গেছে। হাতুড়ে ডাক্তারের ভূতুড়ে চিকিৎসায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এসব ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসায় বিভিন্ন মানুষ ভোগান্তির শিকার হলেও এব‍্যাপারে স্বাস্থ্য প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। প্রতারিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এই শিল্পাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষ।নামের পূর্বে কিছু ডিগ্রী লাগিয়ে সুন্দর সাজ সজ্জা চেম্বার সাজিয়ে বনে যান নামকরা ডেন্টিষ্ট হিসেবে।

অথচ প্রশাসনের নাকের ডগায় এই ভুয়া চিকিৎসকদের সেবা প্রদানের নামে অবৈধ ব্যবসা কার্যক্রম চললেও দেখার কেউ নেই। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ও ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ডিগ্রির সনদ না থাকলেও অনিবন্ধিত এসকল ভুয়া চিকিৎসকগণ এ এলাকায় বসবাসরত কর্মজীবি শ্রমিকদের প্রতারিত করে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ, জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরাবো,আশুলিয়া বাজার,কাঠগড়াসহ প্রায় ৫০টির বেশি ডেন্টাল চেম্বার রয়েছে। এসকল চেম্বারে সরকার অনুমোদিত কোন দাঁতের ডাক্তার নেই। এসকল চেম্বারে রুগী দেখেন চিকিৎসা কাজে অনভিজ্ঞ লোকেরা। এমনকি শিশু-কিশোরদেরও চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে একটি চেম্বারে। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের নামের আগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন প্যাড, ভিজিটিং কার্ড ইত্যাদিতে ‘ডাক্তার’ ও বিভিন্ন ভুয়া ডিগ্রী লাগিয়ে রুগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এভাবে এসব প্রতারক দন্ত চিকিৎসা সেবার নামে শুধুই রোগীর সঙ্গে প্রতারণাই করছেন না একইসঙ্গে দাঁতের চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল চিকিৎসা যথাযথভাবে না করে রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। এসকল ভুয়া চিকিৎসক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সময় যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন তা জীবাণুমুক্ত করণের ব্যবস্থা না নিয়েই চিকিৎসা করছেন। ফলে রোগীর জীবাণুসংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

অনুসন্ধান কালে আশুলিয়ার জামগড়ায় নওয়াব ডেন্টাল কেয়ারে ডাক্তার নাজনিন সুলতানা কে পাওয়া যায়।এ সময় তার কাছে অনুসন্ধানের প্রতিবেদক জানতে চান সে বিডিএস সনদ প্রাপ্ত কিনা।এসময় তিনি জানান সে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে বিডিএস সনদপ্রাপ্ত যাহার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ১১ ৮০৬ এ সময় তাহার কথায় এবং আচরণে সন্দেহভাজন মনে হলে এই প্রতিবেদক অনলাইনে তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বারটি চেক করলে সেখানে ডাক্তার সেলিম রেজা নাম আসে।পরে তার কাছে এই ভূয়া রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে,বাংলার রূপের এই প্রতিবেদক কে তিনি বলেন এটা আমার অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ছিল যার মেয়াদ আরো তিন বছর আগে শেষ হয়ে গেছে।তবে এই ভুলটি করলে কলেজ কতৃপক্ষ করেছে,আমি কিছু বলতে পারব না। ঐ চেম্বারের প্রোপাইটর ডেন্টাল টেকনোলজিষ্ট মোঃ শহিদুল ইসলাম।

এ প্রসঙ্গে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, আপনারা আমাকে ভুয়া ডাক্তারদের তালিকা তৈরি করে দিন আমরা অবশ্যই অভিযান পরিচালনা করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here