এক নং আসামীর কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারীর নাম নেই তিতাসের করা মামলায়।।

0
302

 

মোঃ সোহান আহমেদ সানাউল।

নিজস্ব প্রতিবেদক,বাংলার রূপ।।

 

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর সাভার জোনাল বিপনন অফিস (জবিঅ) এর পক্ষ থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ঢাকার আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।তবে এই মামলায় নাম নেই ওই মামলার ১নং আসামীর মদিনা চানাচুর কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস প্রদানকারী আনোয়ার এর নাম! গত বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) আশুলিয়ার নরসিংহপুর বাংলাবাজার এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে আনুমানিক ২ হাজার বাসাবাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

পরে ওইদিন রাতেই আশুলিয়া থানায় তিতাসের সাভার জোনাল বিপনন অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম মোট ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে বাংলাদেশ গ্যাস আইনে মামলা দায়ের করেন। তবে ওই মামলায় নেই মামলার একমাত্র আটককৃত ১নং আসামী মদিনা ফুড প্রোডাক্ট কারখানার মালিক মোঃ ফজলুল করিম, পিতা মোঃ মনির হোসেন এর কারখানায় টাকার বিনিময়ে গ্যাস সংযোগ প্রদানকারী জনৈক আনোয়ার এর নাম।

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অভিযান চলাকালে মদিনা ফুড প্রোডাক্ট এর মালিক মোঃ ফজলুল করিম উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তিতাসের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে স্বীকার করেন যে আনোয়ার নামের এক ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে তাকে তার কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন।

 

পরে মুঠোফোনে ওইদিন (৬ ফেব্রুয়ারি) আনোয়ার এর নিকট অবৈধ সংযোগ প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদক কোন চ্যানেলের জানতে চেয়ে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন। পরে কয়েকবার কল করলেও তিনি আর কল রিসিভ করেন নাই।

 

এব্যাপারে সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর জোনাল বিপনন অফিস এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম এর নিকট আনোয়ার এর নাম মামলায় না আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি আনোয়ারের পিতার নাম না পাওয়া যাওয়ায় কারণ  সাংবাদিকদের কাছে উল্লেখ করেন।

এদিকে, ইয়ারপুরের বাংলাবাজার এলাকায় সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই এলাকায় গ্যাসের লাইনের মূল হোতাদের নামই মামলায় দেয়নি তিতাস কর্তৃপক্ষ। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাড়িওয়ালা জানান, সাবেক যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর, পিতা- তৈয়ব আলী হলো এই এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারী চক্রের মূল হোতা। তার সাথে রয়েছে রসুল পালোয়ান, পিতা-সাইনউদ্দিন, আমিরুল, পিতা- রহিজউদ্দিন এবং আজিবর মন্ডল, পিতা- মানু মন্ডল। আজিবর মন্ডলের মাধ্যমে প্রতিটি অবৈধ সংযোগ দেয়া বাসা থেকে প্রতিমাসে এক হাজার টাকা উত্তোলন করায় সাবেক যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর।

এব্যাপারে জানতে সাবেক যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর  এর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় অভিযোগের ব্যাপারে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানের মূল হোতাদের নাম তিতাস কর্তৃপক্ষ এর করা মামলায় না থাকায় একাধারে বিক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে অবৈধ গ‍্যাস সংযোগ কারি ও মাসিক চাঁদা আদায়কারি আজিব্বর কে সামনে পেলেও সাংবাদিকদের দেখে তিনি বিভিন্ন অযুহাতে তরিঘরি ঐ স্থান থেকে কেটে পরেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here