ডেমরা সড়কে ট্রাফিক পুলিশের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ।

0
35
খোরশেদ আলম
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
যেখানে সাধারন মানুষ নির্ভরশীল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর সেখানে প্রকাশ্যেই বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গাড়ি থামিয়ে প্রকাশ্যে  চাঁদাবাজি করছে ট্রাফিক পুলিশ।
 ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে ডেমরা  রোডে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহন আটকে থাকায় ঢাকা থেকে আসা ৬৪টি রুটের যানবাহনের যানবাহনের যাএীদের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে।স্টাফ কোয়ার্টার,কোনাপাড়া,বামৈল,নামক এলাকায় পুলিশ যানবাহন থামিয়ে চাঁদা আদায় করছে ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
জনগণের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই।
এ ব্যাপারে  ডেমরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  জানান, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই তিনি আরো বলেন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় তাদের কোনো হাত নেই। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বিষয়টি বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জাকিরুল এর সঙ্গে কথা হলে তিনি যাত্রাবাড়ী-ডেমরা সড়কে চাঁদাবাজির ঘটনা অস্বীকার করেন। দেখা গেছে,  ডেমরা অংশ থেকে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী পৌঁছতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। সেখানে এখন ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণহীন চাঁদাবাজির কারণে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। এতে এই রাস্তার যাত্রীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ডেমরার চৌরাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন না করায় ৩ দিক থেকে বেপরোয়া গাড়ি চলাচল করার কারণে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  ডেমরা চৌরাস্তা ও স্টাফ কোয়ার্টার বাসস্ট্যান্ড,বামৈল,কোনাপাড়া এলাকায় দিনরাত চলে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। যানজটের কারণে করিম জুট মিল দেইল্লা-বাশেরপুল, কোনাপাড়া থেকে ডেমরা ব্রিজ পর্যন্ত অনেক সময়  জরুরি প্রয়োজনে হেঁটে যেতে হয় যাত্রীদের।
কথা হয় বাস যাত্রী শাকিবের সাথে তিনি বলেন আমি প্রতিদিন  ডেমরা চৌরাস্তা থেকে ঢাকা অফিসে যাই প্রতিনিয়তই লক্ষ করি ট্রাফিক পুলিশ ট্রাক বাস সহ বিভিন্ন গাড়ি  থামিয়ে টাকা নিচ্ছে ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। যানজটের কারণে সঠিক সময়ে অফিসে যেতে পারি না শুনতে হয় বসের বকুনি। কবে যে আমাদের জনগনের এ ভোগান্তির শেষ হবে আল্লাহই ভাল জানে।
কথা হয়  ট্রাক ড্রাইভার মিলন মিয়ার সাথে তিনি বলেন যেখানে সাধারন মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা পুলিশের সেখানে আজ পুলিশ প্রকাশ্যেই গাড়ি থামিয়ে করছে  চাঁদা বাজি বিভিন্ন কাদায় কৌশল ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গাড়িতে আমি প্রথমেই বলে বিট দে, যদি বলি স্যার টাকা দিব কেন?তাহলে বলে তোর গাড়ির কাগজ দে লাইসেন্স দে নানা কৌশলে টাকা জরিমানার নামে চাঁদাবাজি। কেন? আমাদের স্বাধীনদেশে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার কি কোন অধিকার নেই? জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন করেন তিনি।
এ ব্যাপারে বাস চালক মনির হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তার গাড়িটি যাত্রাবাড়ী থেকে রূপগঞ্জ  যাওয়ার পথে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় থামানো হয়। এসময় তার গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তার কাছ থেকে ২০০ টাকা চাঁদা নেয়া হয়। সরেজমিনে দুই দিন এসব এলাকায় অবস্থান নিয়ে দেখা যায়,  ডেমরা থেকে ঢাকা গামী রাস্তায় লেগে থাকে তীব্র যানজট। ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি চেকিংয়ের নামে প্রকাশ্যেই টাকা আদায় করছেন। কেউ টাকা দিতে না চাইলে রাস্তায় গাড়ি আটকে রাখতে দেখা গেছে।  ট্রাফিক পুলিশের জ্বালায় অতিষ্ঠ ও হাফিয়ে উঠেছে এই সড়কের যাত্রীসহ চালকরা। নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিয়ে ডেমরায় প্রধান সড়কে দিনের বেলায় দেদারসে ট্রাক চলাচলসহ অনুমোদনবিহীন যানবাহন চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন বৈধ যানবাহনের চালকরা। এতে সহজেই বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট। কোনো কোনো জায়গায় দীর্ঘ সময় যানজট থেকে রেহাই পেতে অনেকেই উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। এতে যানজট আরও বেড়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here