ঝিনাইদহে বাণিজ্যিক ভাবে আঙুর চাষে লাভবান আবদুর রশিদ।।

0
16
আব্দুস সালাম জয়
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ:
ঝিনাইদহে বানিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে সমৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতমধ্যে জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তি উপজেলা মহেশপুরের যোগীহুদা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বিদেশী জাতের আঙুর চাষ করে সফল হয়েছেন। তার বাগানে উৎপাদিত আঙুর ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। গত ১৫ দিনে প্রায় চার মন আঙুর বিক্রি করেছেন। তার ১০ কাঠা জমি থেকে আরো ১০ থেকে ১২ মন আঙুর বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
এর আগে বিভিন্ন এলাকায় আঙুর চাষ হলেও তা স্বুসাদু না হওয়া দ্বিতীয় বার চাষ করেনি। তবে আব্দুর রশিদ এবারই প্রথম এ চাষে সফল হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। জমিতে গাছ রোপনের মাত্র সাত মাসে ফল আসতে শুরু করে। ৯ থেকে ১০ মাসের মাথায় আঙুর পরিপক্ক হয়েছে। কৃষক আব্দুর রশিদের দাবি বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন জাতের বিদেশী আঙুরের থেকে তার জমির পাকা আঙুরের স্বাদ ভালো।
১০ কাঠা জমিতে ছমছম ও সুপার সনিকা জাতের ৭৫ টি আঙ্গুরের গাছ রোপন করেছেন। পাশ্ববর্তী  দেশ ভারত ও ইউরোপের ইতালি থেকে এসব চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার দেখাদেখি এখন অনেকেই আঙুর চাষে আগ্রহী হচ্ছে। প্রতিদিন তার আঙুর চাষ দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছে।
আব্দুর রশিদের শখ, কৃষিতে  নতুন নতুন সবজি, ফল ও ফসলের চাষ করা। আর এ শখের অংশ হলো মাসে একদিন সময় করে দেশের যে কোন প্রান্তে নতুন কোন চাষের সংবাদ পেলে সেখান থেকে ঘুরে আসা। তিনি আঙুরসহ নানা জাতের ফল চাষে সফলতা দেখিয়ে চলেছেন। সাথে ভাগ্যের চাকা ঘুরয়েছেন নিজের পরিবারের। আব্দুর রশিদ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যুগিহুদা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। উপজেলা শহরের পাশ ঘেষে বেয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদীর তীরে বেড়ে উঠা যুবক।ছাত্র জীবনে অত্যান্ত মেধাবী হলে লেখাপড়া করা হয়নি। কর্ম জীবনের শুরু থেকে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও অন্যান্যদের সহযোগীতায় কৃষি কাজ উদ্বুদ্ধ হন।
চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে গোল্ডেন কালারের নতুন জাতের তরমুজ তৃপ্তি চাষ করে সফলতা দেখিয়েছেন। এই দুই বিঘা চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। মাত্র দুই মাসের এ চাষে খরচ বাদে দেড় লাখ টাকা লাভ করেছেন। আঙুরের পাশাপাশি তার পাঁচ বিঘা জমিতে রয়েছে মাল্টা ও কমলা লেবু ।
কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, গত সাত মাস আগে শখের বসে দশ কাঠা জমিতে ছমছম, সুপার সনিকা, কালো জাতসহ কয়েকটি জাতের ৭৫টি আঙুর চারা রোপন করেন।  তিনি এই চারা গুলো পাশ্ববর্তী দেশ ভারত এবং ইতালি থেকে সংগ্রহ করেন। সাত মাস পরিচর্যার পর তার অধিকাংশ গাছেই ব্যাপক আঙুর ফল ধরে। তিনি জানান, প্রতিটি গাছে ৮-১০ কেজি করে আঙুর ধরেছে।
মহেশপুর উপজেলায় তিনি প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আঙুর চাষ করছেন। বিভিন্ন সময় তিনি ইউটিউবে আঙুর, তরমুজ, কমলা চাষের ভিডিও দেখে আগ্রহী হন। আঙুর চাষে সফল হওয়ায়  চাষ সম্প্রসারনে আরো কয়েক বিঘা জমিতে আঙুর গাছের চারা রোপন করছেন। আঙুর গাছে ফল আসার পর পাকতে সময় লাগে ৩/৪ মাস। তার দাবি বাংলাদেশের মাটিতে সুস্বাদু আঙুর চাষে সফলতা তিনিই প্রথম সফল হয়েছেন।
মহেশপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা অমিত বাগচী জানান, আমি নিজে আব্দুর রশিদের চাষ হওয়া আঙুর খেয়েছি স্বাদ ভালো। আমাদের দেশে এর আগেও আঙুর চাষ হয়েছে কিন্তু স্বাদ ভালো হয়নি। এবারই তার জমির আঙুর ভালো স্বাদ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মহেশপুর উপজেলার আবহাওয়া ও মাটি বিভিন্ন ফল চাষের জন্য উপযোগী। এর আগে এই এলাকার কৃষকরা আম, পেয়ারা, বাউকুল, আপেলকুল ও তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তবে গত সাত মাস আগে কৃষক আব্দুর রশিদ তার ১০ কাঠা জমিতে কয়েক প্রজাতির আঙুর গাছের চারা রোপন করেন। প্রথম বছরেই তার আঙুর বাগানে ব্যাপক ফলন এসেছে। ইতিমধ্যে আঙুরে পাক ধরেছে। সুস্বাদুও হয়েছে। এখন আঙুর চাষে আরো প্রযুক্তির ব্যবহার করে স্বাদ বাড়ানো যায় কিনা চেষ্টা করতে হবে। কৃষক আব্দুর রশিদকে সব সময়ই কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা করা হয় বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here