জান কেমন আছিস ? 

0
33
কে সুখী ?
জয়নাল আবেদীন জয়
মেয়ে – জান কেমন আছিস ?
ছেলে – বহুদিন পর জানতে ইচ্ছে হলো বুঝি ?  এইতো বেঁচে আছি, (একটু হেয়ালি উত্তর)
মেয়ে – জান নিশ্চয়ই ভালো আছিস ?
ছেলে -বললামতো বেঁচে আছি (উচ্চস্বরে)
মেয়ে -ওহ তাহলে বুঝি বেশ সুখেই আছিস ?  হাস্যজ্বল ভঙ্গিতে)
ছেলে -বেঁচে থাকলেই যদি সুখে থাকা হয় তাহলে ধরে নে
তবে সুখেই আছি । (ইমোশনাল স্বরে)
মেয়ে -মিথ্যা বলছিস, তোর মুখের হাসিই বলে দেয় তুই অনেক ভালো আছিস সুখে আছিস।
ছেলে – (একটু ফাস্ট ভয়েস রাগ করে দ্রুত বলার মতো করে)-  তোরা মেয়েরা সবসময়ই এরকম নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী ভাবিস, আর অন্যের কষ্টগুলো কম দেখিস, আচ্ছা বলতো সুখ দেখতে কেমনরে, একটু বুঝিয়ে বলবি ?
(এখান থেকে একটু নরমাল ভয়েস কিন্তু একটু দ্রুত হবে)
যদি একটু ভিন্নভাবে ভেবে দেখিস তাহলে দেখবি
বেঁচে থাকা আর ভালো থাকা কখনোই এক নয়,
মরলে কি আর কেউ তারে মারতে আসে ?  দেখিসনি !
জীবন্ত মানবের উপরেইতো সব অত্যাচার করা হয়,
হাসলে গাইলে, খাইলে আর ঘুমাইলে রোজ ভোরে কর্মে  গেলেই কি তাকে ভালো থাকা কয় ?
সুন্দর পোশাকে দেহটাকে মুড়িয়ে হাসিমুখে থাকলেই কি সবাই সুখী হয় ?
(]উচ্চস্বরে হাল্কা স্পীড নিয়ে এখান থেকে)
সবাই বেঁচে আছে
সুখে আছে কয়জন ?
ঠকায়নি, জেনে না জেনে দুঃখ দেয়নি
কার কার আপনজন ?
কার মনে ব্যথা নেই ?
এটাই চিরন্তন সত্য কোথাও কেউ সুখে নেই।
সবাই বেঁচে আছে
সুখে আছে, সুস্থ আছে কয়জন ?
সকলেই কোননা কোন রোগে ভুগছে,
কারও খাবারের অসুখ, কারও ঘুমের অসুখ
কারও হয়েছে প্রেমর অসুখ,
কারও আবার যত্রতত্র অন্যের দেহে লোভ
কারও আবার ঘর বিছানা সঙ্গী সবই আছে
শুধু নেই তার দৈহিক তৃপ্ত সুখ।
কারও আবার ফর্সা হওয়ার ইচ্ছ খুব
ফর্সা মানুষগুলো একদিন রৌদ্রে গেলে
তিনদিন থাকে কালো হয়ে যাওয়ার শোক
রোজ প্রসাধনী মাখে ফর্সা করতে মুখ
এটাও কিন্তু একটা অসুখ।
মেয়ে- (হাস্যকর ভঙ্গিতে) ওহ তাই বুঝি ?
ছেলে-(স্পীড নিয়ে হাল্কা উচ্চকণ্ঠে) তাই নয় কি ?
বেঁটেখাটো মানুষগুলো কি সুখে আছে ?
তাহলে কেন রোজ রোজ ব্যায়াম করে লম্বা হতে ?
অগণিত লম্বা লোকেরাও পরিপূর্ণ তৃপ্ত নয়,
হয় কারো স্বাস্থ্য নেই নাহয় কালো ফর্সা দৈহিক রং নিয়ে হতাশা,
সঠিক মাপের সঙ্গী না পেয়ে অনেকরই থাকে দৈহিক অতৃপ্ততা।
স্বাস্থ্য ভালো সঙ্গী ভালো টাকা পয়সাও আছে ক্যাশ
তাহলে নিশ্চয়ই সুখী বেশ ?
না কখনোই না
তাহলে বল রোজ সকাল সন্ধ্যায় ব্যায়ামের নামে দৌঁড়ায় কেন ?
কত রকম খাবারেও আছে বারন,
ডায়াবেটিস, প্রেসার মেদ ভুড়ি আরও কত কি !
অধিক সুখে থাকাটাও একটা অসুখের কারণ।
(এখান থেকে ইমোশনাল ভয়েস)
কে সুখী ? কিভাবে সুখী ?
রোজ রোজ করি খোঁজ
এখনো তার সন্ধান পাইনি
এরপরেও যখন কেউ বলবে সুখে আছি
আমি বলবো বেঁচে আছে
যদি কেউ বলে ভালো আছি
বলবো সে শুধু বেঁচে আছে।
যতক্ষণ বেঁচে আছি
সুখী হওয়ার মন্ত্রটাও বেঁচে থাকবে
থাকুক হাজার অপূর্ণতা ব্যথা বেদনা কিংবা যন্ত্রণা
এখনো বেঁচে আছি এটাই একমাত্র শান্তনা।
পৃথিবী জুড়ে সুখের অসুখ এক নিরব মহামারী
ঘরে ঘরে জনে জনে সুখের অসুখে ভুগে
সুখী হওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত সকলে
কেউ কেউ সুখী শুধু লোকদেখানো অভিনয়ে
এটাই চিরন্তন সত্য কোথাও কেউ সুখে নেই।
আমি তোর জান ছিলামনা কখনোই, জানকে কি কেউ কখনো ছেড়ে যায় ? অথৈই দুঃখের সাগরে ডুবায় ?
 এত অবহেলার পর যখন হঠাৎ এসে জান ডাকিস আমার বড্ড হাসি পায়,
আচ্ছা বাদ দে এইসব, আমি বেঁচে আছি, এখন বল তুই কেমন আছিস ?
মেয়ে – জানি খুব অভিমান করে আছিস, জান আমিও খুব একটা ভালো নেই, তোর মতো করে ভাবিনি বলে ভেবেছি ভালো আছি,
এখন বলবো আমিও তোর মতোই শুধু বেঁচে আছি,
এটাই চিরন্তন সত্য কোথাও কেউ সুখে নেই।
সবাই আমরা সুখের মুখোশ পড়ে শুধু ভালো থাকার অভিনয় করে যাচ্ছি অবিরাম।
ছেলে – হ্যাঁ ঠিক বলেছিস, এইতো বুঝতে পেরেছিস ! তবুও বলবো হাল ছাড়িসনা একদিন না একদিন সুখী হবি’ই, ভালো থাকিস, কখনো সুখী হলে খবরটা বলতে আবার আসিস, পৃথিবীতে প্রথম সুখী মানুষ হিসেবে তোর সুখী মুখখানা দেখতে আমৃত্যু অপেক্ষা করবো,,,,,,,,,
মেয়ে- ততদিন তুইও ভালো থাকিস,,,,,,,,আলবিদা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here