চট্টগ্রাম পিডিবির ভ্রাম‍্যমাণ আদালতের অভিযান বন্ধ।

0
12
মোঃ সিরাজুল মনির
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব‍্যুরোঃ
দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বন্ধ রেখেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চট্টগ্রাম। আট মাস পরিচালনা করা হয়নি কোনো অভিযান। তাই এই সময়ে সংস্থাটির করা তালিকায় ‘সংযোগ বিচ্ছিন্ন’ কিংবা ‘মামলার সংখ্যা’র ঘরে লেখা আছে একটিই সংখ্যা শূন্য। একই কারণে স্বাভাবিকভাবে কমে গেছে বকেয়া ও জরিমানা আদায়ের হারও। এ সুযোগে অবৈধভাবে বিদ‍্যুৎ ব‍্যবহারকারী আরো বেড়ে যাচ্ছে বলে ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পিডিবি, চট্টগ্রামে উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুটি আদালতের কার্যক্রম চালু আছে। এই দুটি আদালতের অধীনে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুটি আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার তালিকা থেকে ওপরের চিত্র পাওয়া গেছে।

এভাবে চলতে থাকলে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার ও চুরির হার বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এর ফলে বকেয়া আদায় ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রেও ধীরগতি চলে এসেছে। যা দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। বর্তমানে পিডিবির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি থেকে প্রায় ২৩৫ কোটি টাকা পাওনা আছে।

তবে পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার কারণে তিন চার মাস এমনিতেই লকডাউনসহ নানা কারণে অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে। সে সময়ে গ্রাহকদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে সদয় থেকেছেন তাঁরা। করোনার প্রকোপ কমলেও গ্রাহকদের ওপর কঠোর না হয়ে তাঁদের নানাভাবে বকেয়া পরিশোধ করতে বোঝাচ্ছেন। এভাবে বুঝিয়ে বেশ কিছু কিছু বকেয়া বিল আদায়ও হচ্ছে।

এসবের পাশাপাশি আরও একটি পন্থায় হাঁটছে পিডিবি। গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গ্রাহকদের বকেয়া আদায়ের জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের ৯ তারিখ এমনি একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে সংস্থাটি। সেখানে বলা হয় ‘খেলাপী গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সুতরাং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এড়াতে সংশ্লিষ্ট সকল খেলাপী গ্রাহকদের বকেয়া বিল পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’ কিন্তু মাঠ পর্যায়ে অভিযান ছাড়া এমন ‘হুমকিতে’ সাফল্য আসবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।

৮ মাসে হয়নি একটিও অভিযান :

২০১৯ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যকমের তালিকা পাওয়া গেছে। সেই তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, এই সময়ে ৩৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৩৮০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। সবগুলো অভিযান আর সংযোগই বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত। সর্বশেষ মার্চ মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ওই মাসে চারটি অভিযান চালিয়ে ৬৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বকেয়া আদায় করা হয় ২৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৪২টাকা। পাশাপাশি জরিমানা আদায় করা হয় ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৯০টাকা। এরপর নভেম্বর মাস পর্যন্ত আর কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত বকেয়া ও জরিমানা আদায়ের কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ ছিল। তবে আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে বকেয়া ও জরিমানা আদায়। সবমিলিয়ে এই ১৭ মাসে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৬ টাকা বকেয়া আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম নয় মাসেই আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬৪ লাখ ১৮ হাজার ৭৯৫ টাকা। আর প্রথম নয় মাসে যেখানে ১ কোটি ৩৪ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬ টাকা জরিমানা আদায় করতে পেরেছে সেখানে শেষ ৮ মাসে আদায় করা গেছে মাত্র ১৯ লাখ ৭২ হাজার ৩৯৪ টাকা।

করোনার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানান পিডিবি চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী মো. শামছুল আলম। তবে তিনি বলেন, ‘অভিযান বন্ধ থাকলেও আমরা কিন্তু বসে নেই। বকেয়া ও জরিমানা আদায়ে সবাই সোচ্চার আছি। মানুষকে নানাভাবে বুঝিয়ে বকেয়া আদায় করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here