গরু চুরির অপবাদে মা-মেয়ের কোমরে  রশি বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় তিন জন জেল হাজতে।।

0
11
বাংলার রূপ,চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় গরু চুরির অপবাদে মা-মেয়ের কোমরে  রশি বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছবি ও ভিডিও দেখে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গরু চুরির মামলার বাদী নজরুল ইসলাম সাইফ, এবং ঐ মামলার সাক্ষী মোঃ জসিম উদ্দিন ও মোঃ নাছির। মামলার বাদী নজরুল ঐ এলাকার মাহবুব হকের ছেলে।
এদিকে সোমবার (২৪ আগষ্ট) বিকেলে ৫৪ ধারায় তাদেরকে আদালতে তোলা হয়। এসময় আদালত তিন জনকেই জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মা, ছেলে ও দুই মেয়েসহ ৫ জনকে রশিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় কয়েকটি ভিডিও ও ছবি পুলিশ সংগ্রহ করেছে। এসব ভিডিও ও ছবি দেখে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে নজরুল, জসিম ও নাছিরকে হারবাং ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা গতকাল রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত ৩ জনকে সোমবার বিকেলে ৫৪ ধারায় আদালতে তোলা হয়। আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছে। এছাড়াও গ্রেপ্তার ৩ জন গরু চুরির অভিযোগে মা, ছেলে ও দুই মেয়েসহ ৫ জনকে রশিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা জড়িত রয়েছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়।
ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, “মা-মেয়েদের জামিন হয়েছে এবং তাদের পক্ষের আইনজীবী মোবাইলে থানায় যোগাযোগও করেছে। তারাও থানায় একটি মামলা দায়ের করবে বলেও আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন।”
এদিকে শুক্রবার (২১ আগস্ট) চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ডবলতলী গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে মা, ছেলে, দুই মেয়েসহ ৫ জনকে রশিতে বেঁধে নির্যাতন করেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁদের কয়েকটি গ্রাম ঘুরিয়ে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
এরপর সেখান থেকে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে ওই রাতেই গরু চুরির অভিযোগ এনে তিন নারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মামলা করেন মাহবুবুল হক নামের এক ব্যক্তি। পরের দিন শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। সোমবার কক্সবাজারের চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজিব কুমার দেব মা-মেয়েসহ তিন নারীকে জামিন দেন। বাকি দুজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
নারীদের রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও ও কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে সমালোচনা শুরু হলে কক্সবাজার প্রশাসনের টনক নরে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার কক্সবাজার জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here