করোনার ঝুঁকিতে এখন শিল্প শ্রমিকরা।

0
10

রায়হান আলী (আশুলিয়া প্রতিনিধি): 

করোনার ঝুঁকিতে এখন সাভার, আশুলিয়ার শিল্প শ্রমিকরা। সরকারের কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যেও খোলা রয়েছে বেশিরভাগ পোশাক কারখানা। এসব কারখানায় অধিকাংশই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কর্মপরিবেশে তৈরী করলেও শ্রমিকরা আছেন করোনা আতঙ্কে। কারখানার নিজস্ব পরিবহনে শ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও সেটা মানছেন না কর্তৃপক্ষ। ফলে রিকশা, ভ্যান ও পিকআপ ভ্যানে করে যেতে শ্রমিকদের ভাড়া গুণতে হচ্ছে প্রায় ৫ গুণ। রবিবার (১৮ই এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাজের উদ্দেশ্যে দলে দলে যাচ্ছেন পোশাক শ্রমিকরা। তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বের অভাব থাকলেও কিছুটা স্বাস্থ্য সচেতন শ্রমিকরা। নিজেরা সচেতন হলেও কাজ করতে হবে একই ছাদের নিচে। তাই করোনার ঝুঁকি নিয়েই চাকরি ও সংসার বাঁচাতে কারখানামুখী হচ্ছেন শ্রমিকরা।

এদিকে গত ১৪ই এপ্রিল সারাদেশে করোনা মোকাবেলায় সরকার সর্বাত্নক লকডাউন ঘোষণা করেছে। এতে দেশের সব অফিস আদালত বন্ধ রাখা হলেও দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে পোশাক কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাই এই সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ অব্যাহত রেখে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখায় পোশাক শ্রমিকদের ঝুঁকিভাতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কনফেডারেশন অব লেবার (বিসিএল) নামের একটি সংগঠন। সংগঠনের বক্তারা জানান, লকডাউনে সবকিছু বন্ধ থাকলেও দেশের অর্থনীতির গতি সচল রাখার স্বার্থে শিল্প কারখানা খোলা রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি ও যাতায়াতের জন্য সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বেশিরভাগ মালিকই কোনো ব্যবস্থা নেন নি। শ্রমিকদের যাতায়াতের নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ বেশিরভাগ পোশাক কারখানাগুলো সে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে করোনা মহামারিতে শ্রমিকদের ঝুঁকি নিয়ে কারখানায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। সংগঠনটি আরও জানান, করোনাকালে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সব পোশাক শ্রমিককে ঝুঁকিভাতা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি ২০ রমজানে সব শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন ভাতা ও ঈদ বোনাস দিতে হবে। এ মুহূর্তে করোনার অজুহাতে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করা যাবে না।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধি-নিষেধে বাংলাদেশ। যা চলবে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত। সরকার ঘোষিত এই নিষেধে সরকারি – বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শুধু খোলা রয়েছে জরুরি সেবাদানকারী পরিবহন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পোশাক শিল্প কারখানা। এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কারখানা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় পরিবহন সরবরাহের কথা থাকলেও পায়ে হেঁটে কারখানায় যেতে হচ্ছে অনেক শ্রমিকদের। নিজস্ব ব্যবস্থপনায় শ্রমিক পরিবহনের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। এতে করে শ্রমিকদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। অন্যদিকে অটোরিকশায় গাদাগাদি করে যাওয়ায় বাড়ছে করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের ঝুঁকি।
তবে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া এবং সরকারের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে প্রায় অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ঋণের সমর্থন পাওয়ার পরও এ ধরনের দায়িত্বহীন আচরণ কাম্য নয়। তাই কারখানায় শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থাও করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here