উৎকোচ নিয়ে মাদক কারবারিকে ছেড়ে দিলেন রৌমারী থানার উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আকন্দ !

0
19

 

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি।।

ঠিক সকাল ৮টা। রৌমারী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম আকন্দের নেতৃত্বে সাদা পোষাকে পুলিশের একটি দল উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি সড়ক পাড়ার মৃত ফজল হকের মেয়ে লাইলী বেগমের বাড়িতে অভিযান চালান।

পুলিশের অভিযানের কথা শুনে মুর্হুতে ওই বাড়িকে ঘিরে উৎসুক জনতা ভিড় করেন। চলে পুলিশের তল্লাশী। জব্দ করা হয় ৩০০পিস ইয়াবা, নগদ ৪০ হাজার টাকাসহ ৩টি দামি মোবাইল সেট। এসময় ওই বাড়ি থাকা নারী, শিশুসহ ৫ ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের মৃত আইন উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৬), বাড়ির মালিক লাইলী বেগম (৩২) ও তার ছেলে লাভলু মিয়া (১১) ও গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার সন্নাসীর চর (হরিচন্ডী) এলাকার আব্দুল ছালাম মাস্টারের ছেলে রহমত উল্ল্যাহ (২৪) একই এলাকার আব্দুল ছালামের ছেলে মজনু (২৩)।
এর পর বিভিন্ন জায়গায় ফোন দেন সাইফুল ইসলাম। খবর পেয়ে ছুটে আসেন তদবিরকারিরা। আটক ব্যক্তিদের ছাড়াতে ঘন্টাব্যাপী পুলিশ-তদবিরকারিদের মধ্যে চলে দেনদরবার। পরে সমঝোতায় সাইফুল ইসলামকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি লাইলী বেগম ও তার শিশুপুত্রকে ছেড়ে দেন ওই এসআই।
নাম প্রকাশ্যে অনি”ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এভাবে আসল মাদক কারবারিকে ছেড়ে দেওয়ায় উপজেলায় মাদক কারবারিদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।

 

এঘটনার বাড়ির মালিক লাইলী বেগম জানান, ঘটনার দিন পুলিশ হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে তল্লাশী চালায়। এসময় সাইফুলকে পালানোর সুযোগ করে দিলেও আমার শিশু সন্তান লাভলু, আমাকে ও গাইবান্ধা থেকে বেড়াতে আসা দুই আত্মীয়কে আটক করে পুলিশ। সাদা পোষাকে থাকা পুলিশ সদস্যরা আমার শিশু সন্তানকে নির্যাতন করে। পুলিশ এসময় ৩টি মোবাইল ফোন, নগদ ৪০ হাজার টাকাসহ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেন। পরে ৪জনকে হাতকড়া পড়িয়ে ঘরে আটকে রাখে। টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে পরে সন্তানসহ আমাকে ছেড়ে দেন। লাইলী বেগম অভিযোগ করে জানান, ঘটনার দিন সাইফুল ইসলাম প্রায় দিনেই আমার মায়ের পরিত্যক্ত ঘরে মাদকের আসর বসায়। সে প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো কিছু বলার সাহস পাই নাই।

অভিযোগের বিষয়ে মুঠো ফোনে অভিযুক্ত রৌমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম আকন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কি ঘটনা ঘটছে ওই এলাকায় গিয়ে শোনেন।’ পরে ওই এসআই ফোন ব্যাক করে সাংবাদিক সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেন এবং নিউজ না করতে হুমকি দেন।

এব্যপারে রৌমারী থানার ওসি তদন্ত মোন্তাছির বিল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here